মান্তু নাথ, বড়খলা।
বরাক তরঙ্গ, ২৮ জুন : বরাক উপত্যকার সঙ্গে সমগ্র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগের অন্যতম প্রধান লাইফলাইন শিলচর-গুয়াহাটি ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে ফের দেখা দিয়েছে বড় ধরনের বিপর্যয়। কাছাড় জেলার কাটিগড়া বিধানসভার গুমড়া এলাকায় একটি সেতুর ওপর হঠাৎ দু’টি বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ভারী যানবাহনের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এর জেরে পণ্যবাহী ট্রাকসহ শতাধিক ভারী যানবাহন সড়কের দুই প্রান্তে আটকে পড়েছে এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকেরা। এমনিতেই কালাইন থেকে মালিডর পর্যন্ত জাতীয় সড়কের বিস্তীর্ণ অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অসংখ্য গর্ত, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং জল জমে থাকার কারণে প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে মানুষকে। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহন চালকদের। ফলে বরাক উপত্যকার সঙ্গে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাও বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
মাত্র তিন বছর আগে পুনর্নির্মিত সেতুর বেহাল দশা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন; কালাইন–মালিডর সড়কের দুরবস্থায় চরম ভোগান্তিতে বরাকবাসী
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাত্র তিন বছর আগেই গুমড়া সেতুটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল। অথচ এত অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুর ওপর বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়কের সেতুর এমন অবস্থা জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, কী কারণে এত দ্রুত সেতুর এই অবনতি ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং নির্মাণে কোনও গাফিলতি বা অনিয়ম প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, গুমড়া সেতুর এই সংকট শুধু যান চলাচলেই বিঘ্ন সৃষ্টি করেনি, বরং বরাক উপত্যকার ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত সেতুর মেরামতের পাশাপাশি কালাইন থেকে মালিডর পর্যন্ত পুরো জাতীয় সড়কের স্থায়ী ও মানসম্মত সংস্কারের দাবি জোরালো হয়েছে।

এখন বরাকবাসীর নজর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দিকে। কবে গুমড়া সেতুর মেরামত সম্পন্ন হবে, ভারি যান চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং দীর্ঘদিনের বেহাল ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সেই অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।



