বরাক তরঙ্গ, ২২ জুন : বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটির উদ্যোগে ২১ জুন শিবালিক পার্কে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিবালিক পার্ক দুর্গা মণ্ডপ কমিটির সভাপতি ওঙ্কারনাথ রায়, শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটির সভাপতি সুদীপ্ত দেবরায়, শিবালিক পার্ক ওয়াটার সাপ্লাই কমিটির সভাপতি অঞ্জন স্বামী এবং অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও বিশিষ্ট সঙ্গীতশিল্পী সুদীপ্তা ভট্টাচার্য।
উদ্বোধনের পরই মঞ্চে পরিবেশিত হয় কচিকাঁচাদের সমবেত সঙ্গীত। ১৪ জন শিশুশিল্পী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বজ্র মানিক দিয়ে গাঁথা’ এবং ‘ছোট্ট ছোট্ট পায়ে চলতে চলতে ঠিক পৌঁছে যাব’ গান দুটি পরিবেশন করে অনুষ্ঠানের সূচনা করে। তাদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে।
এরপর ৫০ জন শিল্পীর সমবেত কণ্ঠে পরিবেশিত হয় পাঁচটি ভিন্নধর্মী গান। রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘সংশয়তিমির মাঝে না হেরি গতি হে’ ও ‘পান্থ তুমি পান্থজনের সখা হে’-র পাশাপাশি অতুলপ্রসাদের ‘মনোপথে এলো বনহরিণী’, নজরুলগীতি ‘রুমঝুম রুমঝুম নুপুর বাজে’ এবং আধুনিক গান ‘যেথা রামধনু ওঠে হেসে আর ফুল ফোটে ভালবেসে’ পরিবেশিত হয়। সুর, লয় ও তালের নিখুঁত সমন্বয়ে পরিবেশিত এই গানগুলি দর্শকদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। তবলায় সঙ্গত করেন বিশ্বজিৎ দেব এবং সিনথেসাইজারে ছিলেন বিধান লস্কর।

উল্লেখ্য, বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১০ জুন শিবালিক পার্ক দুর্গামণ্ডপে একটি সঙ্গীত কর্মশালার সূচনা হয়। বিশিষ্ট শিল্পী সুদীপ্তা ভট্টাচার্যের প্রশিক্ষণে আয়োজিত এই কর্মশালায় শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত প্রায় ৫০ জন শিল্পী অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় শেখানো গানগুলিই এদিন সমবেতভাবে পরিবেশন করা হয়।
অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে তিন বিশিষ্ট শিল্পীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মানিত শিল্পীরা হলেন সঙ্গীতশিল্পী সুদীপ্তা ভট্টাচার্য, লোকসঙ্গীত শিল্পী বিধান লস্কর এবং তবলা বাদক বিশ্বজিৎ দেব। পাশাপাশি কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সকল শিল্পীর হাতে শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে মঞ্চে একক পরিবেশনা নিয়ে উপস্থিত হন সুদীপ্তা ভট্টাচার্য। তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত, নজরুলগীতি ও দ্বিজেন্দ্রগীতি পরিবেশন করে শ্রোতাদের মন জয় করেন। তাঁর সুরেলা ও আবেগঘন পরিবেশনা দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। এরপর শিবালিক পার্ক ডেভেলাপমেন্ট কমিটির সভাপতি সুদীপ্ত দেবরায় রবীন্দ্রসঙ্গীত ‘তাই তোমার আনন্দ আমার পর’ পরিবেশন করে প্রশংসা কুড়ান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে লোকসংগীত শিল্পী বিধান লস্কর একের পর এক চারটি লোকগান পরিবেশন করেন। তাঁর কণ্ঠের আবেগ, সুরের টান এবং মাটির গন্ধমাখা পরিবেশনা দর্শক-শ্রোতাদের হৃদয় স্পর্শ করে। সবশেষে তিনি সচিন দেব বর্মণের বিখ্যাত গান ‘কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া’ পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘটান।

বিশ্ব সঙ্গীত দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সঙ্গীতপ্রেমীদের এক অনন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার উপহার দেয় এবং স্থানীয় শিল্পীদের প্রতিভা বিকাশের ক্ষেত্র হিসেবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।



