২২ জুন : সুইজারল্যান্ডে চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপের পর ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং দেশটির জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সোমবার (২২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এই অগ্রগতিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
আরাগচি জানান, মধ্যস্থতাকারী দুই দেশের অব্যাহত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য রপ্তানির ওপর থাকা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করা হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা কয়েকটি অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এছাড়া দেশটির পুনর্গঠন ও উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বৃহৎ পরিসরের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
এর আগে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে পাকিস্তান ও কাতার এক যৌথ বিবৃতিতে জানায়, দুই পক্ষ আরও কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন কাঠামো গঠনে সম্মত হয়েছে। রাজনৈতিক তদারকির জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে এবং পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা, পর্যবেক্ষণ ও বিরোধ নিষ্পত্তি নিয়ে পৃথক কর্মীদল কাজ করবে। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পদক্ষেপকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, লেবাননে সংঘাত নিরসনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তার মতে, পাকিস্তান ও কাতারের নিরলস মধ্যস্থতার ফলেই যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের পথে এগোচ্ছে অঞ্চলটি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অগ্রগতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
তথ্যসূত্র : সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



