বরাক তরঙ্গ, ২১ জুন : বরাক উপত্যকায় গৌহাটি হাইকোর্টের একটি স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবিকে আরও জোরালো ও গণমুখী করে তুলতে হাইকোর্ট বেঞ্চ ডিমান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন কমিটি, কাছাড় জেলা কমিটির উদ্যোগে এবং ‘ইয়ুথস এগেইনস্ট সোশ্যাল ইভিলস’ (ইয়াসি)-এর সহযোগিতায় রবিবার ধোয়ারবন্দ রিসোর্টে এক সচেতনতা সভা ও গণস্বাক্ষর অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১২টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সহ-সভাপতি ড. বিভাস দেব, উপদেষ্টা উদয় শঙ্কর গোস্বামী ও বিশিষ্ট আইনজীবী প্রসেনজিত দেব, শিলচর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি পঙ্কজকান্তি দেব, আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব ও তুহিনা শর্মা, সমাজসেবী রসরাজ দাস, ধলাই জিলা পরিষদের সদস্য ধর্মেন্দ্র তেওয়ারি, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জিতেন্দ্রকুমার শুক্লবৈদ্য, ধোয়ারবন্দ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রজত দাসগুপ্ত, ইয়াসির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সঞ্জীব রায় ও যুগ্ম সম্পাদক মান্না দত্তসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইয়াসির প্রধান আহ্বায়ক বাবুল রাই বলেন, বরাক উপত্যকার মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের জন্য সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি আন্দোলনকে গণআন্দোলনের রূপ দিতে যুব সমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
ড. বিভাস দেব তাঁর বক্তব্যে বলেন, প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষের আবাসভূমি বরাক উপত্যকার জন্য একটি স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। বিচার সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে গৌহাটি পর্যন্ত যেতে হওয়ায় সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয়ের পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতেও বিঘ্ন ঘটে। বিচারপ্রাপ্তি মানুষের মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে তিনি দ্রুত বেঞ্চ স্থাপনের দাবি জানান।

বিশিষ্ট আইনজীবী প্রসেনজিত দেব বলেন, বরাক উপত্যকায় হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা কোনো আঞ্চলিক সুবিধার প্রশ্ন নয়, বরং বিচারপ্রার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এই দাবির প্রতি সরকারকে গুরুত্ব সহকারে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব তাঁর বক্তব্যে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার ঐতিহাসিক ও আইনগত প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন। তিনি জানান, ১৯৭২ সালেই শিলচর জেলা বার অ্যাসোসিয়েশন বরাক উপত্যকায় হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবিতে প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল। এছাড়া ভৌগোলিক দূরত্ব, জনসংখ্যা, মামলার সংখ্যা এবং বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগের কথা উল্লেখ করে তিনি অবিলম্বে স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। ইয়াসির কেন্দ্রীয় সভাপতি সঞ্জীব রায় বলেন, সংগঠনটি শুরু থেকেই এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
এছাড়া প্রাক্তন অধ্যক্ষ সুমিতা ঘোষ, উদয় শঙ্কর গোস্বামী, রসরাজ দাস, ধর্মেন্দ্র তেওয়ারি, জিতেন্দ্র কুমার শুক্লবৈদ্য ও রজত দাসগুপ্ত তাঁদের বক্তব্যে হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক ইস্যু নয়; বরং সাধারণ মানুষের বিচারপ্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি জনস্বার্থমূলক দাবি।
প্রশ্নোত্তর পর্ব পরিচালনা করেন আইনজীবী তুহিনা শর্মা। অনুষ্ঠানের শেষে ইয়াসির ধলাই বিধানসভা কমিটির সভাপতি শেখর ধর ধন্যবাদজ্ঞাপন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইনজীবী দেবোমিতা চক্রবর্তী।
সভা শেষে আয়োজিত গণস্বাক্ষর অভিযানে নারী-পুরুষ, ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখা যায়। আয়োজকদের দাবি, এদিন দুই শতাধিক মানুষ গৌহাটি হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবির সমর্থনে স্বাক্ষর করেন।
কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বরাক উপত্যকায় স্থায়ী হাইকোর্ট বেঞ্চ প্রতিষ্ঠার দাবিতে আগামী দিনে শ্রীভূমি ও হাইলাকান্দি জেলাতেও ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক সভা, গণসংযোগ কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর অভিযান পরিচালনা করা হবে। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, বরাকবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ও ধারাবাহিক গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের এই দাবি একদিন বাস্তবায়িত হবে।



