২১ জুন : আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে কলকাতার রেড রোড থেকে দেশ ও বিশ্বের উদ্দেশে বিশেষ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, ‘যোগ শুধুমাত্র শরীরচর্চা নয়, এটি মানুষে মানুষে সংযোগ তৈরির শক্তি এবং মানবতার ঐক্যের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে ভারতের আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, বাংলার সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার এবং বিশ্বব্যাপী যোগচর্চার গুরুত্ব। উন্নত ও সুস্থ ভবিষ্যৎ গঠনের জন্য যোগের চর্চাকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তিনি। দেন সুস্থ বার্ধক্যেরও মন্ত্র।
১২তম আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের জাতীয় মূল অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ জুন পৃথিবীর একাংশে সবথেকে লম্বা দিন। কিন্তু যোগ দিবস হিসেবে মান্যতা পাওয়ার পরে তাঁর গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। যোগ সবাইকে জুড়ে দেয়। এখন ২১ জুন বিশ্বের সবচেয়ে বড় পার্বণে পরিণত হয়েছে। যোগ দিবস পালনে কলকাতায় আসতে পেরে আমার নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
নরেন্দ্র মোদীর কথায়, ‘আজকের বিশ্ব সংঘাত, অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের অস্থিরতার সঙ্গে লড়াই করছে। এই পরিস্থিতিতে যোগ মানুষের ভিতরের ভারসাম্য, সংযম এবং ইতিবাচক শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে পারে।’ তাঁর কথায়, ‘যোগ আমাদের চেতনাকে জাগিয়ে তোলে এবং আরও উন্নত ভবিষ্যৎ গঠনে সহায়তা করে।’
এ বার প্রথম পশ্চিমবঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে এমন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতার রেড রোডে অনুষ্ঠিত এই বৃহৎ কর্মসূচিতে সামিল হন ৩৫ হাজার সাধারণ মানুষ। তাঁদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কলকাতাবাসী স্বচ্ছতার সঙ্গে অভ্যর্থনা জানিয়েছে। এতে নাগরিক কর্তব্য পালনে বহু পরিশ্রম করতে হয়েছে। এই উদ্যোগ ও উদ্যম অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’
এখানেই শেষ নয়, কলকাতায় যোগ দিবস উদযাপনের তাৎপর্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার সঙ্গে যোগ ও আধ্যাত্মিকতার গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। শ্রী অরবিন্দ, স্বামী বিবেকানন্দ এবং শ্রী শ্রী রামকৃষ্ণের ভূমি পশ্চিমবঙ্গ। তাই এখানে যোগ দিবসের অনুষ্ঠান আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই পবিত্র বাংলার মাটিতে রামকৃষ্ণ পরমহংসের মতো সাধক আবির্ভূত হয়েছেন। স্বামী বিবেকানন্দ এখান থেকেই বিশ্বের সামনে যোগের ভাবনা পৌঁছে দিয়েছিলেন। মহর্ষি অরবিন্দ বলতেন, আমার পুরো জীবনই যোগ। যোগ আসলে মানব চেতনার সঙ্গে যুক্ত। লাহিড়ী মশায়ের মহান যোগসাধক যোগের ঐতিহ্যকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন। আজ সেই একই ভূমিতে সম্মিলিতভাবে যোগচর্চা এক অনন্য আধ্যাত্মিক অনুভূতি হচ্ছে।



