মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ জুন : দিনভর প্রতীক্ষার পর বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামলেও উচ্ছ্বাসে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বরং সময় যত এগিয়েছে, ততই বেড়েছে মানুষের ঢল, আবেগ আর উৎসাহের বহিঃপ্রকাশ। শনিবার সন্ধ্যায় শ্রীভূমি শহর যেন পরিণত হয়েছিল এক উৎসবের নগরীতে। রাজ্যের জনস্বাস্থ্য কারিগরি, পার্বত্য ও বরাক উপত্যকা উন্নয়ন বিভাগের মন্ত্রী তথা জনপ্রিয় জননেতা কৃষ্ণেন্দু পালের আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক নজিরবিহীন জনসমাগম ও আবেগঘন পরিবেশ। দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে দলীয় নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ শহরে জড়ো হতে শুরু করেন। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও মানুষের আগ্রহ ও অপেক্ষার প্রহর শেষ হয়নি। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার আশায় রাস্তার দুই ধারে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন হাজারো মানুষ। নিউ করিমগঞ্জ টোলগেট এলাকা থেকে শত শত যুব মোর্চা কর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণে এক বিশাল বাইক র্যালির মাধ্যমে মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পালকে শ্রীভূমি শহরে নিয়ে আসা হয়। হুড খোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে তিনি জনতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন। র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অতিক্রম করার সময় একাধিক স্থানে কনভয় থামিয়ে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়। কোথাও ফুলের তোড়া, কোথাও গামছা ও উত্তরীয়, আবার কোথাও করতালি ও স্লোগানের মাধ্যমে প্রিয় নেতাকে বরণ করে নেন সাধারণ মানুষ।

এওসি পয়েন্ট থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কের দুই পাশে সন্ধ্যার আবছা আলোয় নারী-পুরুষ যুবক যুবতী ও প্রবীণদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা শহর। অনেকেই হাতে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন, কেউবা মোবাইল ক্যামেরায় স্মরণীয় মুহূর্ত বন্দি করতে ব্যস্ত ছিলেন। শহরের অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক সর্বত্রই ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। সন্ধ্যার নরম আলো, মানুষের উচ্ছ্বাস আর ভালোবাসার মিলনে শ্রীভূমি যেন এক ভিন্ন রূপ ধারণ করেছিল। মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল। তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “দিনের শেষ প্রহরে এসেও যেভাবে শ্রীভূমির মানুষ আমাকে ভালোবাসা আশীর্বাদ এবং সম্মানে সিক্ত করেছেন তা সত্যিই আমাকে আবেগাপ্লুত করেছে। এই ভালোবাসা আমার কাছে শুধু সম্মান নয় এটি একটি বড় দায়িত্ব এবং আগামী দিনের কাজের প্রেরণা। তিনি আরও বলেন, “মানুষের আস্থা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আমি ভবিষ্যতেও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব। শ্রীভূমির মানুষের ভালোবাসা কখনও ভোলার নয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে এদিনের বিপুল জনসমাগম শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক কর্মসূচির সাফল্য নয়; বরং এটি একজন নেতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, বিশ্বাস এবং আত্মিক বন্ধনের বহিঃপ্রকাশ। মানুষের সুখ-দুঃখে সবসময় পাশে থাকার কারণেই কৃষ্ণেন্দু পাল আজ সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন অনেকেই।




