অবশেষে ‘সমগ্র শিক্ষা’র ক্যালেন্ডার সংশোধনের দায়িত্ব বাংলা সাহিত্য সভাকে

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ১৯ জুন : অসম সরকারের শিক্ষা বিভাগের অধীনস্থ ‘সমগ্র শিক্ষা’-র ‘ঘরোয়া শেখার কেলেণ্ডার’ নামক ভুলে-ভরা বিতর্কিত বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয়ের ক্যালেন্ডারটি নিয়ে কিছুদিন আগে বরাক উপত্যকার সংবাদ মাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে প্রবল আলোড়ন সৃষ্টি হয়।‌ অনেকে নিজস্ব সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও করে বিষয়টি জনসমক্ষে নিয়ে আসেন। এরপর সামাজিক মাধ্যমে সংবাদ আকারে এই ভুলে-ভরা ক্যালেন্ডারগুলির কথা তুলে ধরা হয়।‌ প্রশ্ন ওঠে, যেখানে মাতৃভাষা রক্ষার জন্য এতগুলি প্রাণ বিসর্জনের মতো ঘটনা ঘটেছিল, সেইখানে ভুল ভাষা শিক্ষা চলছে কী করে?

উল্লেখ্য, ক্যালেন্ডারটির শিরোনামেই ভুল : “ঘরোয়া শেখার কেলেণ্ডার”। ঘরোয়া শেখা বলতে কী বোঝানো হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। এমনকি ‘কেলেণ্ডার’ শব্দটিও বাংলায় ভুল ও সেকেলে বানান। এরপরও শব্দে-শব্দে ভুল রয়েছে। ‘অঙ্গঁ’, ‘নাঁচতে’, ‘রোপন’, ‘বান্ধু'(বন্ধু অর্থে), ‘অনুকরন’, ‘পরিক্ষা’, ‘পরিস্কার’ ইত্যাদি অনেক শব্দ ভুল বানান বহন করছে বারো পাতার এই ক্যালেন্ডারে।

নানা স্তর থেকে অভিযোগ ওঠায় অসম সরকারের রাজ্যিক শিক্ষা-গবেষণা ও প্রশিক্ষণ পরিষদ নড়েচড়ে বসেছে। পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারিভাবে পত্রযোগে ‘বাংলা সাহিত্য সভা, অসম’-কে এই ক্ষেত্রে সংশোধন ও সম্পাদনার দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য যে, অসমের শিক্ষামন্ত্রী ডা. রনোজ পেগুর নির্দেশে  অসমের সকল বাংলা মাধ্যমের বিদ্যালয় স্তরের  পাঠ্যপুস্তকের সম্পাদনা অনুবাদ ইত্যাদির গুরুদায়িত্ব ‘বাংলা সাহিত্য, সভা, অসম’-এর হাতে অর্পণ করা হয়েছে।

এবারে দায়িত্বপ্রাপ্তির পর ‘বাংলা সাহিত্য, সভা, অসম’-এর সাধারণ সম্পাদক ড. প্রশান্ত চক্রবর্তী বলেন, ‘বিষয়টি নানাসূত্রে আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।‌ এত ভুলে-ভরা ক্যালেন্ডার কারা করেছিলেন, সেটা দেখতে হবে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাব, অযোগ্যরা যেন আর এরকম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব না-পান। আমরা ইতিমধ্যে তৃতীয় শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত বাংলা মাধ্যমের ভাষা-সাহিত্য, গণিত, বিজ্ঞান সহ যাবতীয় বই সম্পাদনা করে দিয়েছি। অসমের বিভিন্ন অঞ্চলের অধ্যাপক-শিক্ষক, সাংবাদিক-সাহিত্যিকবৃন্দ এই মহতী কার্যে যুক্ত। নিরানব্বই শতাংশ শুদ্ধ রূপে বইগুলো অসমের বাংলা মাধ্যমের স্কুলে যাচ্ছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক আমরা করিনি। তবে শুনেছি, অনেক ভুল আছে সেখানেও। আমরা আগামী বছরের মধ্যে সেগুলিকেও সংশোধিত রূপে সাজাতে পারব, আশা রাখি।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিজের ভাষা শুদ্ধ রূপে শেখানো এক পবিত্র দায়িত্ব। পাঠ্যপুস্তক ও প্রশ্নপত্রকে তাই বিশুদ্ধ করতেই হবে। তা না-করে কেবল উনিশে মে আর একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন এক প্রহসন মাত্র।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *