১৫ জুন : বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে ছোট্ট এক দেশ কেপ ভার্দে। পাঁচ লক্ষেরও কম জনসংখ্যার এই আফ্রিকান দ্বীপরাষ্ট্রের জন্য বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই ছিল এক রূপকথার মতো সাফল্য। তবে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই আরও বড় চমক দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখাল দলটি।
প্রাক্তন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নেমে দুর্দান্ত লড়াই উপহার দিয়েছে কেপ ভার্দে। গোল উৎসবের প্রত্যাশা নিয়ে ম্যাচ শুরু করা স্প্যানিশরা পুরো ৯০ মিনিটেও ভেদ করতে পারেনি কেপ ভার্দের দুর্ভেদ্য রক্ষণভাগ। ফলে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হয়।
এই ড্র শুধু একটি পয়েন্ট অর্জনের গল্প নয়, বরং বিশ্বকাপের মঞ্চে কেপ ভার্দের সামর্থ্যের শক্তিশালী ঘোষণা। ইউরোপের অন্যতম সেরা দল স্পেনকে রুখে দিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়েছে আফ্রিকার এই নবাগত দল।
কেপ ভার্দের এই ঐতিহাসিক সাফল্যের নেপথ্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন দলের অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিন্হা। তাঁর পুরো নাম জোসমার জোস ইভরা ডায়াস। ৪০ বছর বয়সী এই গোলকিপার ম্যাচজুড়ে অসাধারণ সব সেভ করে স্পেনের একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে দেন। অন্তত পাঁচটি বা তারও বেশি গোল বাঁচিয়ে তিনি দলের নায়কে পরিণত হন।
ম্যাচে স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালালেও গোলবারের নিচে ভোজিন্হার দৃঢ় উপস্থিতি ছিল অটুট। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্স না থাকলে ম্যাচের ফল সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত। অনেকের মতে, কেপ ভার্দের গোলরক্ষক এদিন না থাকলে স্পেন বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিতে পারত।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে আটকে দিয়ে কেপ ভার্দে প্রমাণ করেছে, ফুটবলে অসম্ভব বলে কিছু নেই। আফ্রিকার এই ক্ষুদ্র দেশটির জন্য এটি নিঃসন্দেহে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত।



