ভোরবেলায় লাতু বাজারে সন্দেহভাজন যুবক আটক, জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এল বাংলাদেশি পরিচয়

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি। 
বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুন : ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী লাতু বাজার এলাকায় এক সন্দেহভাজন যুবককে আটককে কেন্দ্র করে সোমবার ভোরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্কতা ও তৎপরতার ফলে ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ধৃত ব্যক্তির নাম জসিম সরকার। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেকে বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের বিয়ানীবাজার-বড়লেখা এলাকার বাসিন্দা বলে স্বীকার করেছেন। তার কাছ থেকে বাংলাদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট, দেশলাই এবং কিছু নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে লাতু বাজারে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের জার্সি পরিহিত এক অচেনা যুবককে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হয় এলাকাবাসীর। দীর্ঘ সময় ধরে উদ্দেশ্যহীনভাবে বাজার ও আশপাশের এলাকায় ঘোরাফেরা করায় কয়েকজন স্থানীয় যুবক তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

প্রথমদিকে তিনি নিজের পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করলেও পরে জিজ্ঞাসাবাদের মুখে স্বীকার করেন যে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক এবং সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করেছেন। এরপর স্থানীয়রা তাকে আটক করে লাতু পিআইসিপি (PICP)-এর সেকেন্ড লাইন অব ডিফেন্সের নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুলে দেন।

খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেন এবং বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। তিনি কী উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন, সীমান্ত পারাপারের সঙ্গে কোনো দালালচক্র বা সহযোগী জড়িত রয়েছে কি না এবং তার সঙ্গে অন্য কেউ সীমান্ত অতিক্রম করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকা সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, সাধারণ মানুষের সতর্কতা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারির সমন্বয়েই এ ধরনের ঘটনা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।

এদিকে, আটক ব্যক্তিকে নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে লাতু বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় দিনভর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *