দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ১৫ জুন : দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোমবার তাপাংস্থিত কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান বিধায়ক কিশোর নাথ। বিদ্যালয়ের সামগ্রিক পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে খাদ্যের নিম্নমান, পানীয় জলের সংকট, বিদ্যুৎ সমস্যা এবং আবাসিক ব্যবস্থার নানা অসুবিধার অভিযোগ উঠে আসে।
শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিধায়ককে জানান, বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা মাছ, ডিম, দুধ ও সবজি-সহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর মান অত্যন্ত নিম্নমানের। কিছু খাদ্যপণ্যের মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার অভিযোগও তোলা হয়। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার লিখিত ও মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তারা।
এছাড়াও বিদ্যালয়ে পানীয়জলের তীব্র সংকট, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবের কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে। আবাসিক ছাত্রীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডাবল-ডেকার বেডের নিচের অংশে অবস্থানকারী ছাত্রীরা পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের সুবিধা না পাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
অভিযোগগুলি গুরুত্ব সহকারে শুনে বিধায়ক কিশোর নাথ সংশ্লিষ্ট খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ করেন এবং সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে আগামী দুই দিনের মধ্যে পাঁচটি নতুন ফ্যান সরবরাহের ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে দ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং খাদ্যসামগ্রীর নিম্নমান ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য সরবরাহের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেন।
পরিদর্শন শেষে বিধায়ক বলেন, “ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। বিদ্যালয়ের প্রতিটি সমস্যা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” বিধায়কের এই আশ্বাসের পর এলাকাবাসী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তর কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং কত দ্রুত সমস্যাগুলির সমাধান হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।



