ক্যানসারের ওষুধে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি, বাড়ল একাধিক ভ্যাকসিনের দামও

Spread the news

১৩ জুন : ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি ভ্যাকসিনের মূল্যও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। ওষুধের মূল্য নির্ধারণকারী সংস্থা ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি (এনপিপিএ) সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছে। এনপিপিএ সূত্রে জানা গেছে, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির কারণে ওষুধ উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে পূর্বের নির্ধারিত দামে ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ বজায় রাখা নির্মাতাদের পক্ষে ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছিল। এর জেরে বাজারে সরবরাহ সঙ্কটের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছিল।
নতুন মূল্য কাঠামো অনুযায়ী, ক্যানসার চিকিৎসায় বহুল ব্যবহৃত কার্বোপ্লাটিন ও সিসপ্লাটিন ইনজেকশনের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। কেমোথেরাপির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত এই ওষুধ দুটি বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যাপকভাবে প্রয়োগ করা হয়।

এছাড়াও টিটেনাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত অ্যান্টি-টিটেনাস ইমিউনোগ্লোবুলিন ইনজেকশন এবং সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার তৈরি শিশুদের জন্য ব্যবহৃত কয়েকটি ভ্যাকসিনের দামও বাড়ানো হয়েছে।

এনপিপিএর দাবি, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখতেই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থার মতে, উৎপাদন ব্যাহত হলে বাজারে ওষুধের ঘাটতি দেখা দিতে পারত, যা রোগীদের জন্য আরও বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াত।

উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের পরই এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। যদিও মাত্র চারটি ওষুধের মূল্য সংশোধনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তার প্রভাবে ২৭টি চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রায় এক হাজার ফর্মুলেশনের ওষুধের দাম বেড়েছে বলে জানা গেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রভাব ইতিমধ্যেই বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যেই জীবনরক্ষাকারী ওষুধের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে। বিশেষ করে ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *