জরায়ুমুখের ক্যানসার প্রতিরোধে ১৪-১৫ বছর বয়সী প্রতিটি কিশোরীকে টিকাকরণের আহ্বান মরিগাঁও জেলা প্রশাসনের

Spread the news

মরিগাঁও জেলায় ২৮ জুনে ১,৪১,৩৪৫ জন শিশুকে নিয়ে পোলিও টিকাদান অভিযান

বরাক তরঙ্গ, ১২ জুন : রাজ্যের অন্যান্য জায়গার পাশাপাশি মরিগাঁও জেলায়ও আগামী ২৮ জুন ৫ বছর বয়সের নীচের শিশুদের পোলিও টিকা দেওয়ার জন্য মরিগাঁও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। শুক্রবার এই বিষয়ে জেলা কমিশনারের কার্যালয়ের সভাকক্ষে অতিরিক্ত জেলা কমিশনার (স্বাস্থ্য) নিতীশা বরার সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রাজ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ নগেন শর্মা পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে পোলিও টিকাদান অভিযানের প্রস্তুতি বিষয়ে বিস্তারিত জানান। তিনি বলেন, নবজাতক থেকে ৫ বছর বয়স পর্যন্ত মরিগাঁও জেলায় মোট ১,৪১,৩৪৫ জন শিশুকে এই অভিযানের আওতায় আনা হবে। ২৮ জুন জেলাটিতে মোট ৯১৪টি বুথে টিকা দেওয়া হবে। ২৯ জুন তিন হাজারেরও বেশি স্বাস্থ্যকর্মী ঘরে ঘরে গিয়ে পোলিও টিকা প্রদান করবেন। অন্যদিকে , ২৮ তারিখ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তিন দিন বিভিন্ন বাস স্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন ইত্যাদিতে পোলিও টিকা দেওয়া হবে। সভায় অতিরিক্ত জেলা কমিশনার নিতীশা বরায় প্রতিটি যোগ্য শিশু টিকা পাওয়া নিশ্চিত করার জন্য সকলকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে আহ্বান জানান।

সভায় এইসপিভি টিকাকরণ কর্মসূচি বিষয়েও আলোচনা করা হয়। অতিরিক্ত জেলা কমিশনার এই টিকাকরণ নিয়ে সমাজে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ও ভুল তথ্য, বিশেষ করে টিকা গ্রহণে অন্যান্য স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা সৃষ্টি করে বলে চালিয়ে আসা অপপ্রচার দূর করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রী এবং সমাজের সকল স্তরের মধ্যে অধিক সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্বাস্থ্য পরিষেবার যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ শৈলেন্দ্র বর্ধন বরায় এই টিকাদান অভিযান সফল করতে বিভিন্ন বিভাগের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে ভারতকে পোলিওমুক্ত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। অসমের মরিগাঁও জেলার লাহরিঘাটে শেষবারের মতো ২০০৮ সালে পোলিও আক্রান্ত একজন ব্যক্তি শনাক্ত হয়েছিল। তিনি এই রোগ সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা চালানোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন। সভায় সহকারী জেলাশাসক সন্তোষ বুঢ়াগোহাঁই, জেলা টিকাকরণ আধিকারিক ডাঃ নিরঞ্জন কোঁওর এবং বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিক ও স্বাস্থ্য বিভাগের আধিকারিক-কর্মচারী, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *