দেশের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী  মোদি NDA বৈঠকে তুলে ধরলেন ১২ বছরের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ রূপরেখা

Spread the news

১০ জুন : দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী পদে থাকার নজির গড়ার প্রেক্ষাপটে বুধবার রাজধানীর ভারত মণ্ডপমে এনডিএ শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রী ও জোটসঙ্গী নেতাদের নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৈঠক শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ‘মা ভারতী’-র সেবা করার সুযোগ পাওয়া তাঁর কাছে পরম সৌভাগ্যের বিষয় এবং এটি ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদ ছাড়া সম্ভব নয়।

প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, এই সাফল্য তাঁর ব্যক্তিগত নয়, বরং এনডিএ পরিবারের সমস্ত সহযোগী দল ও নেতাদের সম্মিলিত অবদানের ফল। সকল সহকর্মীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণই তাঁর কাছে ঈশ্বরের প্রতিমূর্তি এবং জনসেবাকে তিনি সবসময় এক ধরনের আধ্যাত্মিক সাধনা হিসেবে দেখেছেন।

মোদির দাবি, ২০১৪ সালের আগে কয়েক দশক ধরে দেশের রাজনীতি অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে, যার ফলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল। এনডিএ সরকার দেশের মানুষকে একটি স্থিতিশীল প্রশাসন উপহার দিয়েছে এবং তার সুফল আজ সাধারণ মানুষ প্রত্যক্ষ করছে। তিনি বলেন, গত ১২ বছরে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করেছে এবং সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।

কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে দেশের ধীর অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’ বলে অভিহিত করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সেটি ছিল ‘কংগ্রেস গ্রোথ রেট’। তাঁর অভিযোগ, ভুল নীতি, দুর্বল প্রশাসন ও একের পর এক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে কংগ্রেস দেশের উন্নয়নের গতি থামিয়ে দিয়েছিল। ২০১৪ সালে এনডিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন শুরু হয় এবং উন্নয়নের নতুন গতি সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত এক দশকে ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ দারিদ্র্যের সীমারেখার উপরে উঠে এসেছে এবং দেশে একটি শক্তিশালী নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণির উত্থান ঘটেছে। এই শ্রেণির অগ্রগতি ধরে রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানান তিনি। মধ্যবিত্তের স্বার্থে করব্যবস্থার সংস্কারের উল্লেখ করে মোদী বলেন, বর্তমানে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে।

অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ৭.৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল অর্থনীতিগুলির মধ্যে অন্যতম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতের উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, মহাকাশ প্রযুক্তি, ড্রোন, ডেটা সেন্টার, ব্যাটারি স্টোরেজ ও জ্বালানি নিরাপত্তার মতো কৌশলগত ক্ষেত্রগুলিতে আত্মনির্ভরতার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, উন্নত ভারত গঠনের পথে এই প্রযুক্তিগুলিই হবে আগামী দিনের চালিকাশক্তি।

বক্তব্যের শেষে দেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মোদী বলেন, “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস ও সবকা প্রয়াস” নীতিকে সামনে রেখেই উন্নত ভারত গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাবে দেশ। পাশাপাশি রাজ্যগুলির মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা ও উন্নয়নের পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *