হজরত মুহাম্মদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, ‘হিরেন হিন্দু অসম’কে গ্রেফতারের দাবি

Spread the news

বিশেষ প্রতিবেদক, মরিগাঁও।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুন : সামাজিক মাধ্যমে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে অসমের মুসলিম সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অত্যন্ত আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করায় সরব মুসলিম দল সংগঠন। এই জঘন্য ঘটনার প্রতিবাদে এবং মূল অভিযুক্ত ‘হিরেন হিন্দু অসম’ কে অবিলম্ব গ্রেফতারির দাবিতে রাজ্যজুড়ে সোচ্চার হয়েছে  মুসলিম ছাত্র সংস্থা, অসম (মুসা)। এই ঘটনার তীব্র  নিন্দা করে সংগঠনের পক্ষ থেকে ইতিমিধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের একাধিক থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করে। মুসলিম ছাত্র সংস্থার কেন্দ্রীয় সভাপতি আশিক রাব্বানি এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছেন।

তিনি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, “বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ)-এর শান ও মর্যাদা মুসলিম উম্মাহর কাছে প্রাণের চেয়েও প্রিয়। তাঁকে নিয়ে কেউ কোনো ধরনের অপমানজনক বা বিতর্কিত মন্তব্য করবে, তা কোনো সচেতন সমাজ কোনও কারণেই মেনে নিতে পারে না।আশিক রাব্বানি আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা হিন্দু-মুসলমানের মধ্যকার ঐতিহ্যগত সম্প্রীতি, শান্তি এবং ভ্রাতৃত্ববোধ বিনষ্ট করার জন্য একটি বিশেষ দুষ্টচক্র সুপরিকল্পিতভাবে মাঠে নেমেছে। এই চক্রটি সোশ্যাল মিডিয়াকে হাতিয়ার করে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে উসকে দিয়ে রাজ্যে এক অশান্ত পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে।

উল্লেখ্য, ফেসবুকে ‘হিরেন হিন্দু অসম’ নামের একটি নির্দিষ্ট প্রোফাইল থেকে বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে লক্ষ্য করে অত্যন্ত জঘন্য, কুরুচিপূর্ণ ও মর্যাদাহানিকর মন্তব্য পোস্ট করা হয়।উক্ত ফেসবুক পোস্টটির মাধ্যমে কেবল আমাদের প্রিয় নবীজিকেই চরম অপমান করা হয়নি, বরং সমগ্র বিশ্বের তথা অসমের লক্ষ লক্ষ ইসলাম ধর্মাবলম্বী মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে অত্যন্ত নির্মম ও গভীরভাবে আঘাত করা হয়েছে। এটি কোনও সাধারণ বাক-স্বাধীনতা নয় বলে আশিক রাব্বানী মন্তব্য করেন।

এদিকে, এই ঘটনার পর থেকেই অসমের বিভিন্ন জেলা ও স্থানীয় থানায় ‘হিরেন হিন্দু অসম’-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুসার প্রতিনিধি দল এজাহার জমা দিতে শুরু করেছে। মুসলিম ছাত্র সংস্থার পক্ষ থেকে অসম পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত জোরালো দাবি জানানো হয়েছে যেন সাইবার সেলের সহায়তায় এই ফেসবুক অ্যাকাউন্টের পেছনের মূল হোতাকে অতি দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়। প্রশাসনকে মুসার সভাপতি আশিক রাব্বানী স্পষ্ট হুঁশিয়ারি  করে বলেন, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে অসম পুলিশ যদি অনতিবিলম্বে এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেয় এবং অপরাধীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়, তবে মুসলিম ছাত্র সংস্থা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। সমগ্র অসম জুড়ে অত্যন্ত জোরালো ও ব্যাপক আকারে গণতান্ত্রিক আন্দোলন গড়ে তুলতে আমরা বাধ্য হব।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *