৭ জুন: সিকিম থেকে শিলিগুড়ি যাওয়ার পথে তিস্তা নদীতে গাড়ি দুর্ঘটনায় মর্মান্তিক মৃত্যু হল একই পরিবারের চার সদস্যের। শুক্রবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার উদ্ধারকারী দল তিস্তা নদী থেকে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটি উদ্ধার করে। গাড়ির ভেতর থেকেই শিশু-সহ চারজনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, সিকিমের বাসিন্দা ওই পরিবারটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে শিলিগুড়িতে চিকিৎসাধীন এক আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে আসছিলেন। শুক্রবার বিকেলে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের রোম্বি ও বাঘপুলের মাঝামাঝি ভেলাবাড়ি এলাকায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের শেষবার যোগাযোগ হয়। এরপর থেকেই তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সঙ্গে আর কোনও যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, প্রবল বৃষ্টি ও পাহাড়ি ধসের জেরে রাস্তার পরিস্থিতি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। পাহাড় থেকে নেমে আসা ধস ও ঝরনার জলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর খাদে পড়ে তিস্তা নদীতে তলিয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যদের নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার রাত থেকেই তল্লাশি শুরু হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার সকালে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সিকিম প্রশাসন এবং এনডিআরএফ-এর যৌথ উদ্যোগে ব্যাপক অনুসন্ধান অভিযান চালানো হয়। ডেপুটি কমান্ড্যান্ট সঞ্জয় রঞ্জনের নেতৃত্বে উদ্ধারকারীরা প্রথমে নদীর ধারে গাড়ির ব্যাটারি ও কিছু ভাঙা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করেন। পরে তল্লাশি জোরদার করা হলে নদীগর্ভ থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয় এবং তার ভেতর থেকেই চারজনের দেহ উদ্ধার করা হয়। মৃতদের পরিচয় পাওয়া গেছে সব্য নিউপানে (২৭), স্মরিকা নিউপানে (২৯), টিকা মায়া দাহাল (৩১) এবং পাঁচ বছরের শিশু দিত্য ছেত্রী হিসেবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মৃতদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকায়। প্রবল বৃষ্টি এবং ধারাবাহিক পাহাড়ি ধসের কারণে ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের নিরাপত্তা ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট অজয় কুমার জানান, “শুক্রবার থেকেই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছিল। রাতের অন্ধকারে উদ্ধারকাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। শনিবার সকালে ডুবুরি দলকে নিয়ে ফের অভিযান শুরু করা হয়। সেবক কালীবাড়ির সামনে তিস্তা নদী থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়েছে এবং তার ভেতর থেকেই চারজনের দেহ পাওয়া গেছে।”



