অনিতা পাল, কাটিগড়া।
বরাক তরঙ্গ, ৭ জুন : দীর্ঘদিন ধরে কালাইন বাজার এলাকায় জাতীয় সড়ক ৬ নম্বরে চলমান যানজট সমস্যার বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভ নতুন নয়। কিন্তু শনিবার সেই সমস্যা যেন এক পরিবারের জীবনে অপূরণীয় ট্র্যাজেডি ডেকে আনল। পরিবারের অভিযোগ, সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পারায় অকালে প্রাণ হারাতে হলো গুমড়া এলাকার এক ব্যক্তিকে।
মৃত ব্যক্তি সেবক চন্দ (৪৫), কাটিগড়ার গুমড়া এলাকার খেলমা ষষ্ঠ খন্ডের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন সেলুন কর্মী ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী সদস্য হিসেবে স্ত্রী ও দুই কন্যার ভরসাস্থল ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুরে নিজের বাড়িতে জলের মোটর স্থাপনের কাজ করছিলেন সেবক চন্দ। কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরিবারের সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরিস্থিতি সামাল দিলেও কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তখনই তাকে চিকিৎসার জন্য কালাইন হাসপাতালে (সিএইচসি)-তে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের সদস্যরা।
কিন্তু হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পরই শুরু হয় বিপত্তি। কালাইন বাজার এলাকায় ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে প্রতিদিনের মতোই সৃষ্টি হয়েছিল দীর্ঘ যানজট। পরিবারের দাবি, যে পথ সাধারণত ১০ মিনিটে অতিক্রম করা সম্ভব, সেই পথ পার হতে এদিন লেগে যায় এক ঘণ্টারও বেশি সময়। অসুস্থ সেবক চন্দকে নিয়ে তারা দীর্ঘক্ষণ যানবাহনের সারিতে আটকে ছিলেন এবং বারবার চেষ্টা করেও দ্রুত এগোতে পারেননি।
অবশেষে কালাইন হাসপাতালে পৌঁছানো সম্ভব হলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে সেবক চন্দকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনার পর শোকস্তব্ধ হয়ে পড়ে গোটা পরিবার। পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য, সড়কে এমন ভয়াবহ যানজট না থাকলে হয়তো সেবক চন্দকে বাঁচানো সম্ভব হতো। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালাইন বাজার এলাকায় যানবাহনের চাপ, অপরিকল্পিত পার্কিং এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। কিন্তু সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ এখনও চোখে পড়ছে না। সেবক চন্দের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই সঙ্গে নতুন করে সামনে এসেছে ৬ নম্বর জাতীয় সড়কের যানজট সমস্যা। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, প্রতিদিনের এই ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা কেবল যাতায়াতের অসুবিধাই সৃষ্টি করছে না, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবার ক্ষেত্রেও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। একটি পরিবারের কর্তা হারানোর এই মর্মান্তিক ঘটনা এখন প্রশ্ন তুলছে – আর কত প্রাণহানি ঘটলে কালাইন বাজারের দীর্ঘস্থায়ী যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে?



