বরাক তরঙ্গ, ৬ জুন : ধেমাজি জেলার জোনাইয়ে বিভিন্ন মসজিদে লাউডস্পিকারে উচ্চস্বরে আজান সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার টিএমপিকে, আসু, এজেওয়াইসিপি, আগছুসহ ১৮টি জাতীয় ও জনজাতীয় সংগঠন জোনাই সদর থানায় একটি স্মারকলিপি জমা দেয়। স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, জোনাই বাজার, কমলপুর, নগঞা এবং মুর্কংচেলেক মহাবিদ্যালয় সংলগ্ন কয়েকটি মসজিদে উচ্চস্বরে আজান সম্প্রচারের ফলে এলাকার শিক্ষাগত ও সামাজিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং শব্দদূষণের কারণে অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।
এদিকে, শুক্রবার জোনাই বাজার জামে মসজিদ কমিটি এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে। কমিটির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কিছু কনটেন্ট নির্মাতা ও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী ভুল তথ্য প্রচার করে সামাজিক ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার চেষ্টা করছেন। জোনাই জামে মসজিদের সম্পাদক শহিদ আনসারি বলেন, “লাউডস্পিকারে আজানকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বাস্তবে জোনাইয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা লাউডস্পিকারের শব্দ কমিয়ে আজান দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। জোনাইয়ে আমাদের জামে মসজিদের প্রায় ৭০ বছরের ইতিহাস রয়েছে। এই সময়ে কখনও অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। আমরা বিভিন্ন জাতি-জনগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করে আসছি।”
তিনি আরও বলেন, “জোনাইয়ে আজান বন্ধ করা হয়নি। তাই প্রকৃত পরিস্থিতি না জেনে সামাজিক মাধ্যমে আতঙ্ক ছড়ানো বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। যদি অপপ্রচার অব্যাহত থাকে, তাহলে মসজিদ কমিটি আইনগত পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবে।”
মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা আব্দুল নুরও একই সুরে বলেন, “জোনাইয়ের প্রকৃত পরিস্থিতি না জেনে সামাজিক মাধ্যমে ভিউ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালানো উচিত নয়। আমরা এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করছি এবং ভবিষ্যতেও সেই শান্তি বজায় রাখতে চাই।”
উল্লেখ্য, গত ২ জুন ১৮টি জাতীয় ও জনজাতীয় সংগঠন জোনাই সদর থানায় জমা দেওয়া স্মারকলিপিতে জানায় যে, অসম-অরুণাচল সীমান্তবর্তী জোনাই অঞ্চল বহু জাতি, জনগোষ্ঠী ও ধর্মাবলম্বী মানুষের মিলনক্ষেত্র। দীর্ঘদিন ধরে এখানে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের পরিবেশ বজায় রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মসজিদে উচ্চস্বরে আজান সম্প্রচারকে কেন্দ্র করে নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা, শিক্ষার পরিবেশ এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে মসজিদগুলোতে উচ্চস্বরে আজান সম্প্রচার বন্ধ করে সীমিত শব্দমাত্রায় আজান দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়।



