কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, পাল্টা জবাব ইরানের

Spread the news

৩ জুন : চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কৌশলগত কেশম দ্বীপকে ঘিরে আবারও মুখোমুখি অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা ‘আত্মরক্ষামূলক’ পদক্ষেপ হিসেবে দ্বীপটিতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে তারা অঞ্চলে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে কেশম দ্বীপে একাধিক বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি গণমাধ্যম।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপে চালানো হামলা ছিল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ইরানের কথিত হামলার চেষ্টার জবাব। মার্কিন বাহিনীর দাবি, তারা জাহাজ ও উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে ছোড়া ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনও ভূপাতিত করেছে।

এর আগে সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালিতে নৌ নিরাপত্তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তারা ইরানের দিকে অগ্রসর হওয়া একটি খালি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেটিকে অচল করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর বতসোয়ানার পতাকাবাহী ওই জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে একটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়। পরে ট্যাংকারটিতে হামলার একটি ভিডিওও প্রকাশ করে সেন্টকম।

এদিকে আইআরজিসি জানিয়েছে, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা অঞ্চলের একটি দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি ও হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে হামলার স্থান ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

সেন্টকমের দাবি, ইরান কুয়েতের দিকে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই ব্যর্থ হয় বা ভেঙে পড়ে। একই সঙ্গে বাহরাইনের দিকে ছোড়া আরও তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক সমুদ্রসীমা দিয়ে চলাচলকারী বেসামরিক জাহাজের দিকে ছোড়া তিনটি হামলাকারী ড্রোনও ভূপাতিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাহিনী।

ইরানের আধা-সরকারি মেহর বার্তাসংস্থার বরাতে আনাদোলু জানায়, কেশম দ্বীপে দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানায়, দ্বীপটির সুজা ও মাসেন এলাকার কাছাকাছি কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। প্রাথমিক মূল্যায়নে ধারণা করা হচ্ছে, জনবসতিহীন এলাকায় কোনো ধরনের প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *