রূপক চক্রবর্তী, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২ জুন : শিলচর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে নির্বাচন-পরবর্তী পর্যালোচনা বৈঠক চলাকালীন তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলা কংগ্রেসের সংখ্যালঘু বিভাগের সভাপতি আনছার হোসেন বড়লস্করকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। ঘটনাকে ঘিরে জেলা কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনকে সামনে রেখে আয়োজিত এই পর্যালোচনা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেসের সম্পাদক প্রাঞ্জল ঘটোয়ার, স্বপন কর এবং বিধায়ক আমিনুর রশিদ চৌধুরী। সকাল থেকেই বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী, নেতা ও কর্মীদের বক্তব্য শোনা হচ্ছিল। অধিকাংশ কেন্দ্রের আলোচনা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও সোনাই বিধানসভা কেন্দ্রের পর্যালোচনা শুরু হতেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠকে আনসার হুসেইন বড়লস্করের উপস্থিতি লক্ষ্য করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্করের সমর্থকরা। তাঁদের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে আনছার প্রকাশ্যে অগপ প্রার্থী করিম উদ্দিন বড়ভূইয়ার হয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। এই অভিযোগ তুলে তাঁকে বৈঠক কক্ষ থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।
তবে আনছার হোসেন বড়লস্কর বৈঠক ত্যাগ করতে অস্বীকার করলে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, এরপর তাঁকে মারধর করে বৈঠক কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনার জেরে সভাস্থলে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলেও পরে সোনাইয়ের বিধায়ক আমিনুল হক লস্কর নিজে হস্তক্ষেপ করে সমর্থকদের শান্ত করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলা কংগ্রেসের অভ্যন্তরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংবাদ লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে জেলা বা প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



