পিএম স্বনিধি প্রকল্প শুধু ঋণ প্রদানের কর্মসূচি নয়, বিক্রেতাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা : মন্ত্রী মনোহরলাল

Spread the news

আধুনিক ‘নিউ ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার : মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা

বরাক তরঙ্গ, ৩১ মে : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের প্রান্তিক, অসংগঠিত ও স্বল্প আয়ের মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সামাজিক সুরক্ষা এবং আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করতে চালু হওয়া প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি (পিএম স্বনিধি) প্রকল্প গত ছয় বছরে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। রবিবার প্রকল্পটির ষষ্ঠ বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আগরতলার মুক্তধারা প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ, আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজীব ভট্টাচার্য, দীপক মজুমদার-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে পিএম স্বনিধি ক্রেডিট কার্ড, ঋণের প্রতীকী ডকুমেন্ট এবং ডিজিটাল লেনদেনের বিভিন্ন উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র ‘মন কি বাত’-এর ১৩৪তম পর্বের সম্প্রচারও প্রদর্শন করা হয়। ‘মন কি বাত’-এ প্রধানমন্ত্রী দেশের ক্রীড়াবিদদের সাফল্য, প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাঁদের সংগ্রাম, চোল সাম্রাজ্যের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, মহাকাশ বিজ্ঞানে ভারতের অগ্রগতি এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে যুক্ত সাধারণ মানুষের অবদানের কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর বলেন, পিএম স্বনিধি প্রকল্প শুধু ঋণ প্রদানের কর্মসূচি নয়, বরং পথ বিক্রেতাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে মর্যাদাবান করে তোলার একটি শক্তিশালী উদ্যোগ। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রী মোদির দূরদর্শী নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই প্রকল্প দেশের লক্ষ লক্ষ স্ট্রিট ভেন্ডরের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে।

মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা বলেন, শহুরে অর্থনীতি ও জনজীবনের সঙ্গে পথ বিক্রেতাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোভিড-১৯ মহামারীর সময় তাদের দুরবস্থা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সেই বাস্তবতা বিবেচনা করেই ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী স্বনিধি প্রকল্প চালু করা হয়। তিনি জানান, ত্রিপুরায় এ পর্যন্ত ৮,৬৬৬ জন পথ বিক্রেতাকে ভেন্ডিং সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়েছে। মোট ১১,৭২৭টি ঋণ আবেদনের মধ্যে ৯,৫৭৮টি অনুমোদিত হয়েছে এবং ৯,৩০১ জনের মধ্যে ১৫.২৮ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫,০০০ জন সুবিধাভোগী ঋণ পরিশোধও করেছেন।

ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তির প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ৫,৯৮২ জন পথ বিক্রেতা ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থায় যুক্ত হয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে প্রায় ২০২.৩৪ কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের দর্শনকে সামনে রেখেই এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ‘নিউ ইন্ডিয়া’র স্বপ্নকে সামনে রেখে ত্রিপুরা সরকারও একটি স্বনির্ভর, সমৃদ্ধ ও আধুনিক ‘নিউ ত্রিপুরা’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *