বরাক তরঙ্গ, ৩০ মে : মণিপুরে এক ট্রাকচালককে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যজুড়ে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার এক ট্রাকচালক নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার শতাধিক ট্রাকচালক ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করে ৩৭ নম্বর ইম্ফল–জিরিবাম জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে যান চলাচল কার্যত স্তব্ধ হয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আন্দোলনের জেরে এলপিজি, তেলবাহী ট্যাঙ্কার এবং অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবোঝাই ট্রাকসহ প্রায় ৫০০টিরও বেশি যানবাহন সড়কে আটকে পড়েছে। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ন্যায়বিচারের দাবিতে মণিপুরের বিভিন্ন স্থানে ট্রাকচালকেরা তাঁদের যানবাহন সড়কে দাঁড় করিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন।
চালক সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, ট্রাকচালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ১০২ নম্বর ইম্ফল–ডিমাপুর জাতীয় সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ থাকবে।
নিহত ট্রাকচালকের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার বাসিন্দা নীতিশ কুমার (৫৭)। শুক্রবার অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রীবাহী ট্রাক নিয়ে মণিপুরের টিএম কাছম এলাকায় প্রবেশ করার সময় দুষ্কৃতীদের হামলার শিকার হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
মণিপুর পুলিশ জানিয়েছে, ২৯ মে মণিপুর পুলিশ, সিআরপিএফ, বিএসএফ এবং আরএএফ যৌথভাবে ইয়াইংগাংপোকপি থেকে উখরুলগামী অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী ট্রাক, এলপিজি ও তেল ট্যাঙ্কারগুলিকে নিরাপত্তা দিচ্ছিল। কিন্তু টিএম কাছম গ্রামের নিকটবর্তী পাটলেইজাং পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া কুকি জঙ্গিরা কনভয়ের উপর অতর্কিতে গুলিবর্ষণ করে। এই হামলায় ট্রাকচালক নীতিশ কুমার নিহত হন এবং লিটান থানার এক পুলিশকর্মী গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাজুড়ে ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলার পর মণিপুরে অসামরিক পরিবহণ ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চালক সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়েছে, পর্যাপ্ত ও নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাজ্যের জাতীয় সড়কগুলিতে পণ্যবাহী যান চলাচল স্বাভাবিক হবে না।
এদিকে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় শনিবার মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রী অল মণিপুর রোড ট্রান্সপোর্ট ড্রাইভার্স অ্যান্ড মোটর ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের উদ্বেগ ও দাবিদাওয়া নিয়ে আলোচনা করেন।



