কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড একাধিক রাজ্য, উত্তরপ্রদেশে মৃত ২০, বিহারে ১৪

Spread the news

৩০ মে : তীব্র দাবদাহের পরে দেশ জুড়েই দেখা গিয়েছে আবহাওয়ার ভোলবদল। গরম থেকে স্বস্তি মিললেও প্রকৃতির তাণ্ডবে প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের বেশ কয়েকটি রাজ্যে ভারী বৃষ্টি, কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টি ব্যাপক ধ্বংসলীলা চালিয়েছে। ঝড়বৃষ্টির জেরে একাধিক দুর্ঘটনায় শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশেই মৃত কমপক্ষে ২০ জন। প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪ জন। এ ছাড়া উত্তরাখণ্ড ও ঝাড়খণ্ড এবং জম্মু-কাশ্মীরেও কয়েক জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। পশ্চিমবঙ্গেও ঝড়বৃষ্টির দাপটে মৃত্যু হয়েছে আটজনের এবং জখম আরও অনেকে।

ঝড়ের দাপটে বিভিন্ন রাজ্যে বিদ্যুতের খুঁটি এবং গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিপর্যস্ত হয়ে গিয়েছে। ট্রেন লাইনের উপর গাছ ও খুঁটি ভেঙে পড়ায় অনেক জায়গায় থমকে যায় ট্রেন চলাচলও। এ ছাড়াও, খারাপ আবহাওয়ার জেরে ব্যাহত হয়েছে বিমান পরিষেবাও।

দুর্যোগের জেরে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে উত্তরপ্রদেশের বুন্দেলখণ্ড এবং পূর্বাঞ্চল এলাকার। উত্তর-পূর্ব রেলের বারাণসী ডিভিশনের চৌরিচৌরা এবং গৌরী বাজার স্টেশনের মাঝে রেল লাইনের উপর একাধিক বড় গাছ ভেঙে পড়েছে। যার জেরে শুক্রবার গোরক্ষপুর ক্যান্টনমেন্ট এবং দেওরিয়ার মধ্যে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং ট্রেনগুলি যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। ওরাই এবং ভুয়া স্টেশনের মাঝে ওভারহেডের বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে ঝাঁসি-লখনউ সেকশনেও ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

বিহারেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভারি বৃষ্টির কারণে পশ্চিম চম্পারণ জেলায় গণ্ডক নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। পুঁঝা ঘাটের কাছে নদীর জল বাড়ায় একটি পন্টুন ব্রিজের সংযোগকারী রাস্তা জলের তলায় তলিয়ে গিয়েছে। ঝড়ের কারণে কোডারমা সেকশনে প্রায় তিন ঘণ্টা ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়। পাটনা বিমানবন্দরে খারাপ আবহাওয়ার জন্য বেশ কয়েকটি বিমানের রুট ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। সঙ্গে বেশ কয়েকটি বিমানের ওঠানামায় বিলম্বও হয়।

উত্তরাখণ্ডের রুদ্রপ্রয়াগের তুঙ্গনাথ-চোপতা এলাকায় ঝড়বৃষ্টির দাপটে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর জখম আরও বেশ কয়েকজন। প্রতিকূল আবহাওয়ার জেরে আটকে পড়া ৫০ জনেরও বেশি পর্যটককে প্রশাসন ও উদ্ধারকারী দল উদ্ধার করেছে। তবে বৃষ্টির ফলে সেই রাজ্যের বনাঞ্চলের বিধ্বংসী আগুন সম্পূর্ণ নিভে গিয়েছে। গাড়োয়ালে ৩৫৪টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩০৫.৭৮ হেক্টর বনভূমি এবং কুমায়ুনে ৮৩টি আগুনে ৭১.২৯ হেক্টর বনভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতি ও শুক্রবারের বৃষ্টিতে সেই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *