বরাক তরঙ্গ, ২৭ মে : শিলচর ডিএসএ-র ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবস এবার পালিত হলো অত্যন্ত সাদামাটা ভাবে। জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া নিয়ামক সংস্থার প্রতিষ্ঠা দিবসে অতীতের সেই জৌলুস না থাকায় ক্রীড়ামহলের একাংশে দেখা দিয়েছে হতাশা ও ক্ষোভ। সংস্থার বর্তমান কর্মসমিতির নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।
একসময় শিলচর ডিএসএ-র প্রতিষ্ঠা দিবস মানেই ছিল ক্রীড়াজগতের এক বিশেষ দিন। প্রাক্তন ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকদের সংবর্ধনা, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং মিলনমেলার আবহে মুখর থাকত ডিএসএ প্রাঙ্গণ। কিন্তু গত দু’বছরের নানা অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীণ বিভেদের প্রভাব এবার স্পষ্ট ধরা পড়ল প্রতিষ্ঠা দিবসের আয়োজনে। মাত্র কয়েকটি সংক্ষিপ্ত কর্মসূচির মধ্য দিয়েই শেষ হয় ৭০ বছরের ঐতিহ্য বহনকারী সংস্থার অনুষ্ঠান।
ক্রীড়ামহলের অনেকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রাক্তন কর্মকর্তাদের স্মরণ করে আরও বৃহত্তর পরিসরে অনুষ্ঠান আয়োজন করা যেত। জেলার বিভিন্ন ক্রীড়া সংগঠককে একত্রিত করে বিভেদ মেটানোর উদ্যোগ নেওয়ারও সুযোগ ছিল। কিন্তু সে ধরনের কোনও প্রয়াস দেখা যায়নি বর্তমান কমিটির তরফে।
জানা গেছে, সভাপতি শিবব্রত দত্ত বর্তমানে কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্যকে নিয়েই সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল ২৬ সদস্যের পরিচালন সমিতি গঠন করা হলেও বর্তমানে সক্রিয় রয়েছেন হাতে গোনা কয়েকজন পদাধিকারী। প্রতিষ্ঠা দিবসে সভাপতি শিবব্রত দত্ত মাত্র তিনজন পদাধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাদল দে-র বাড়িতে যান এবং তাঁকে পুষ্পস্তবক প্রদান করেন।
প্রবীণ ক্রীড়া সংগঠক বাদল দে একসময় ডিএসএ-র প্রাণপুরুষ হিসেবেই পরিচিত ছিলেন। সভাপতি থাকাকালীন প্রায় প্রতিদিনই তিনি ডিএসএ-তে সময় কাটাতেন এবং সংগঠনের কার্যক্রমে সরাসরি যুক্ত থাকতেন।
ডিএসএ-র জীবিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে সজল দত্ত বর্তমানে কানাডায় এবং ডাঃ পূর্ণেন্দু দাস লন্ডনে বসবাস করছেন। কানাডা থেকে দূরভাষে সজল দত্ত জানান, অনলাইনে ডিএসএ-র অশান্তির খবর পেয়ে তিনি ব্যথিত হন এবং সংস্থার সুস্থ পরিবেশ ফিরে আসুক বলেই তিনি কামনা করেন।
এদিন সকালে সভাপতি শিবব্রত দত্ত পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা দিবসের সূচনা করেন। পরে সংস্থার ইতিহাস ও প্রতিষ্ঠা প্রসঙ্গে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন তিনি এবং প্রাক্তন সভাপতি বাবুল হোড়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি আশুতোষ রায়, নন্দদুলাল রায়, ইন্ডিয়া ক্লাবের সভাপতি অমিত দত্ত, ভারপ্রাপ্ত সচিব দেবাশিস সোম, সহ-সচিব অরিজিৎ গুপ্ত, অজয় রায়-সহ অন্যান্য সদস্যরা।
বিকেলে ডিএসএ অ্যাকাডেমির শিক্ষার্থীদের নিয়ে বয়সভিত্তিক প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফুটবল সচিব বিকাশ দাস, অতনু চৌধুরী, হিরণ্ময় দাস, বাহারুল ইসলাম, শঙ্কর ভট্টাচার্য প্রমুখ।



