শিলচরে সম্মিলিত লোকমঞ্চের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ধামাইল দিবস পালন

Spread the news

দীপ দেব, শিলচর।
বরাক তরঙ্গ, ২৬ মে : শিলচর সঙ্গীত বিদ্যালয়ের মুকুন্দদাস–কালিকাপ্রসাদ স্মৃতিমঞ্চে মঙ্গলবার সম্মিলিত লোকমঞ্চের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ধামাইল দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে। সকাল ১১টায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পঞ্চপ্রদীপ প্রজ্জ্বলন এবং প্রখ্যাত লোকশিল্পী রাধারমণ দত্তের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক বিশ্বতোষ চৌধুরী, বিভাস দেব, নেহেরু কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যক্ষা মেঘমালা দে মোহন্ত, বরুণ জ্যোতি চৌধুরী, সমাজকর্মী স্বর্ণালী চৌধুরী এবং সম্মিলিত লোকমঞ্চের সম্পাদক ভাস্কর দাস। অতিথিদের গলায় গামছা পরিয়ে ও স্মারক প্রদান করে সংবর্ধিত করা হয়।

স্বাগত ভাষণে ভাস্কর দাস সংস্থার ১১ বছরের কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরে ধামাইল নৃত্য ও সংগীতকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিত করে তোলার প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এ বিষয়ে মন্ত্রী কৌশিক রায়ের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বিশ্বতোষ চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে রাধারমণ দত্তকে বাংলা সাহিত্যের অন্যতম সাধক কবি ও বৈষ্ণব বাউল-ধামাইল গীতির স্রষ্টা হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কৃষ্ণবিরহ, প্রেম ও ভক্তিভাবনাকে কেন্দ্র করে রচিত রাধারমণের ধামাইল গান সিলেট, কাছাড়, ত্রিপুরা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিশেষ জনপ্রিয়। নতুন প্রজন্মকে ধামাইল সঙ্গীত সংরক্ষণ ও প্রসারে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান তিনি।

মেঘমালা দে মোহন্ত বলেন, বিশ্বায়ন ও নগরায়নের যুগে লোকঐতিহ্য রক্ষা ও পুনর্জাগরণ অত্যন্ত জরুরি। তাঁর মতে, ধামাইল শুধু সংগীত নয়, বরং সমাজ ও সংস্কৃতির বিবর্তনের ধারক। এছাড়া বিভাস দেব, বরুণ জ্যোতি চৌধুরী এবং সমাজকর্মী স্বর্ণালী চৌধুরীও ধামাইলের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন এবং এ ধরনের আয়োজনের জন্য সম্মিলিত লোকমঞ্চকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে রাই কিশোরী সংস্থা, মা ভবানী সংস্থা, দুধপাতিল নৃত্য নিকেতনসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক দলের শিল্পীরা ধামাইল সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন। একক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রিয়াঙ্কা রায়, রিংকু চৌধুরী, মঙ্গলা নাথ ও শুক্লা নাথ। পাশাপাশি সুমিত বারী ধামাইল নিয়ে নিজের অনুভূতিও ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত লোকমঞ্চের সহ-সভাপতি শান্তনু রায়, সাংস্কৃতিক সম্পাদক কানাইলাল দাস, কোষাধ্যক্ষ ঝিমলি নাথ, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক মণিমিতা গোস্বামী, গৌরীশঙ্কর নাথ, দীপক নাথ, সর্বশী নাথ, জলি শুক্লবৈদ্য, জুয়েল নাথ, জলসা নাথ ও রিংকু চৌধুরীসহ অন্যান্য সদস্যরা। আয়োজকদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *