২৫ মে : পবিত্র হজ পালনকে কেন্দ্র করে এখন ধর্মীয় আবেগ, আধ্যাত্মিকতা ও ব্যস্ততায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে মক্কা নগরী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আগত লাখো মুসল্লি আজ সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশ করছেন হজের মূল কার্যক্রমে। সন্ধ্যার পর থেকেই শুরু হবে মিনার উদ্দেশ্যে হাজিদের যাত্রা। ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সৌদি আরব সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বিদেশ থেকে আগত হজযাত্রীর সংখ্যা ১৫ লক্ষ ১৮ হাজারের বেশি। অভ্যন্তরীণ হাজিদের যুক্ত করলে মোট সংখ্যা ১৭ লক্ষ অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে ভারত থেকে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
হজের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে মিনায় অবস্থানের জন্য প্রতিটি দেশের হাজিদের আলাদা তাবু নির্ধারণ করা হয়েছে। ভারতীয় হাজিদের জন্য ১ থেকে ৩৪ নম্বর পর্যন্ত তাবু বরাদ্দ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে হাজিদের হাতে কার্ড পৌঁছে গেছে। পাশাপাশি ভারতীয় হজ মিশন ও স্টেট হজ ইন্সপেক্টরদের মাধ্যমে মিনায় যাত্রার নির্দিষ্ট সময়ও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পরিবহন ব্যবস্থাপনায়ও নেওয়া হয়েছে বিশেষ উদ্যোগ। ১ থেকে ১৭ নম্বর তাবুর হাজিদের যাতায়াতের জন্য রাখা হয়েছে মেট্রো ট্রেন সুবিধা। আর ১৮ থেকে ৩৪ নম্বর মক্তবের হাজিদের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ বাস সার্ভিস।
৮ জিলহজ মিনায় অবস্থানের মধ্য দিয়ে শুরু হবে হজের গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা। ৯ জিলহজ সকালে হাজিরা রওনা হবেন আরাফাত-এর ময়দানের দিকে। আরাফাতে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান ফরজ হিসেবে বিবেচিত। সারাদিন সেখানে লাখো মুসল্লি মহান আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, তওবা ও মোনাজাতে নিমগ্ন থাকবেন। চারদিক মুখরিত হবে “লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক” ধ্বনিতে। সূর্যাস্তের পর হাজিরা রওনা হবেন মুজদালিফা-র উদ্দেশ্যে। সেখানে মাগরিব ও এশার নামাজ একত্রে আদায়ের পর খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করবেন তারা। একইসঙ্গে জামারাতে নিক্ষেপের জন্য কংকর সংগ্রহ করবেন।
১০ জিলহজ সকালে হাজিরা মিনায় ফিরে বড় জামারাতে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করবেন। এরপর কোরবানি, মাথা মুণ্ডন বা চুল ছাঁটার মাধ্যমে এহরামের কিছু বিধিনিষেধ থেকে মুক্ত হবেন। পরে মসজিদুল হারাম-এ গিয়ে তাওয়াফে জিয়ারত ও সায়ি আদায় করবেন।



