কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘোষণা মেনে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানো ঐচ্ছিক করার দাবি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশনের

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২২ মে : সমগ্র রাজ্যজুড়ে বলপূর্বক প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর সরকারি অভিযানের বিরুদ্ধে এবং গ্রাহকদের অধিকার সুরক্ষার দাবিতে আজ সরব হলো অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনের কাছাড় জেলা কোর্ডিনেশন কমিটির পক্ষ থেকে শুক্রবার আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (APDCL)-এর শিলচর সাবডিভিশন-১ এর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার মারফত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকপত্র প্রদান করা হয়। স্মারকপত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় যে, প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকেই সাধারণ ও নিম্নবিত্ত গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। রিচার্জ শেষ হওয়ামাত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার ফলে নিম্নমধ্যবিত্ত ও গরিব পরিবারগুলো চরম সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার বেসরকারিকরণের প্রচ্ছন্ন পরিকল্পনা হিসেবে গৃহীত এই প্রিপেইড ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে তীব্র প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে উঠেছে।

স্মারকপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে দেশের সংসদ অধিবেশনে কেন্দ্রীয় শক্তিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছিলেন যে গ্রাহকদের জন্য প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানো কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। অথচ কেন্দ্রীয় সরকারের এই স্পষ্ট অবস্থানের পরেও আসামে এপিডিসিএল অত্যন্ত স্বৈরাচারী উপায়ে সাধারণ মানুষকে অন্ধকারে রেখে, কোনও বিকল্প সুযোগ না দিয়ে জোর করে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসাতে বাধ্য করছে। এই পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর নিকট কেন্দ্রীয় শক্তি মন্ত্রীর সংসদীয় ঘোষণাকে মর্যাদা দিয়ে আসাম সরকারের পক্ষ থেকেও অবিলম্বে একটি স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারি করা হোক, বিদ্যুৎ গ্রাহকদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানো অবিলম্বে বন্ধ করা হোক এবং যে সমস্ত গ্রাহক প্রিপেড স্মার্ট মিটার চান না, তাদের জন্য পূর্বের পোস্টপেইড (অ্যানালগ/ডিজিটাল) মিটার বহাল রাখার বা পুনরায় ফিরিয়ে দেওয়ার বিকল্প ব্যবস্থা আইনিভাবে সুনিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়।

আজকের এই স্মারকপত্র প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের প্রতিনিধি দীপঙ্কর চন্দ, মধূসুদন কর, মৃনালকান্তি সোম, কমল চক্রবর্তী, সঞ্জীব রায়, রঞ্জিত চৌধুরী, সুকল্পা দত্ত, চাম্পালাল দাস, সত্যজিৎ গুপ্ত, অঞ্জন কুমার চন্দ, হিল্লোল ভট্টাচার্য প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *