ইরান যুদ্ধের প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও! বিদেশ থেকে ফিরেই মন্ত্রীদের কী নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

Spread the news

২২ মে : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের অর্থনীতিতেও পড়েছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ভবিষ্যতে জ্বালানির বড় ধরনের সঙ্কট দেখা দিতে পারে দেশে। টাকার পতনও অব্যাহত। এই পরিস্থিতিতে আগে দেশের জ্বালানির ব্যবহারে লাগাম টানতে দেশবাসীকে একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ বার কেন্দ্রের মন্ত্রীদের নতুন করে আর্থিক সংস্কারে গতি আনার নির্দেশ দিলেন তিনি।

আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী পদে নরেন্দ্র মোদীর ১২ বছর পূর্ণ হতে চলেছে। তার আগে অর্থনীতিতে মন্দার পরিস্থিতি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার সব পূর্ণমন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিলেন মোদি। প্রধানমন্ত্রীর নতুন দপ্তর সেবাতীর্থে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা ধরে সেই বৈঠক হয়। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের প্রধানমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, সমস্ত বকেয়া কাজ সেরে ফেলতে হবে। অযথা বিতর্কে জড়ালে চলবে না। শুধুমাত্র সুশাসন ও পরিষেবার দিকে নজর দিতে হবে। দ্রুত ফাইল ছাড়তে হবে। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে এলপিজি ও অন্যান্য গ্যাস আমদানিতে সমস্যা তৈরি হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী জৈব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর দিকে নজর দিতে বলেছেন।

গত সপ্তাহে সাত দিনের জন্য পাঁচ দেশের সফরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকেই ফিরেই এই বৈঠক করেন তিনি। সরকারি সূত্রের দাবি, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ‘রিফর্ম এক্সপ্রেস’-এর কথা বলেছেন। প্রতিটি মন্ত্রক কী ভাবে আর্থিক সংস্কারের পথে হাঁটার কথা ভাবছে, তার রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের ব্যাখ্যা, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশে জ্বালানির দাম এখন ঊর্ধ্বমুখী। এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। দেশে মূল্যবৃদ্ধির হার বাড়লে, তাতে লাগাম পরাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককেও পদক্ষেপ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে ঋণের উপরে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। এতে শিল্পের জন্য ঋণের খরচ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। যদি তা-ই হয়, তা হলে দেশের আর্থিক বৃদ্ধিও ধাক্কা খাবে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনীতির গতি বজায় রাখতে নতুন করে সংস্কারে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

স্বাধীনতার শতবর্ষের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার কথা প্রায়ই বলে থাকে মোদী সরকার। অর্থাৎ, ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রের তালিকায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে তিনি মন্ত্রীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন, এটা নিছক স্লোগান নয়, প্রতিশ্রুতি। তার জন্য কাজে গতি আনতে হবে। কাজের প্রক্রিয়া সরল করতে হবে। কম সময়ে বেশি কাজ করতে হবে। ফাইল আটকে রাখলে চলবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *