মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ২০ মে : রাজ্যজুড়ে জোরপূর্বক প্রিপেড স্মার্ট মিটার বসানোর প্রতিবাদে সরব হলো অল আসাম ইলেক্ট্রিসিটি কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন। বুধবার সংগঠনের ‘করিমগঞ্জ জেলা কমিটি’র পক্ষ থেকে রাজ্যের বিদ্যুৎমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে একটি স্মারকপত্র প্রেরণ করা হয়। এপিডিসিএল-এর শ্রীভূমি জেলার জেনারেল ম্যানেজারের মাধ্যমে স্মারকপত্রটি পাঠানো হয়েছে।
স্মারকপত্রে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, কয়েক বছর ধরে আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিডিসিএল) সাধারণ গ্রাহকদের ওপর জোরপূর্বক প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চাপিয়ে দিচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলি চরম সমস্যার মুখে পড়েছে। সংগঠনের দাবি, স্মার্ট মিটার বসানোর পর থেকেই বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রিচার্জ শেষ হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে।
স্মারকপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, কেন্দ্রীয় শক্তিমন্ত্রী গত ২ এপ্রিল সংসদে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন প্রিপেড স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়, বরং এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। অথচ আসামে গ্রাহকদের মতামত উপেক্ষা করে জোর করে এই ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলে সংগঠনটি।

এছাড়াও সম্প্রতি করিমগঞ্জ শহরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মনতোষ দাসের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের চার দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— জোরপূর্বক স্মার্ট মিটার বসানো বন্ধ, পোস্টপেইড মিটারের বিকল্প চালু রাখা, স্পষ্ট সরকারি নির্দেশিকা জারি এবং মৃত মনতোষ দাসের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান।
স্মারকপত্র প্রদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি সুনীত রঞ্জন দত্ত, জেলা সম্পাদক সুজিৎকুমার পাল, পৃথ্বিজীৎ দেব, দেবব্রত শুক্ল, গোপাল চন্দ্র পালসহ অন্যান্য সদস্যরা।



