বরাক তরঙ্গ, ২০ মে : জন্ম-মৃত্যু পঞ্জীকরণ প্রমাণপত্র নিয়ে রমরমা বাণিজ্য চলছে সোনাবাড়িঘাট প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে। দিনের পর দিন ধরে চলে আসা এই বাণিজ্য বারবার প্রকাশ্যে এলেও আখেরে কোনও লাভ হয়নি সাধারণ মানুষের। তবে এবার সামাজমাধ্যমে এমন অভিযোগ উত্থাপন হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেন হাসপাতালের চেয়ারম্যানের প্রতিনিধি রাকা মজুমদার। অভিযোগটি সমাজমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে গিয়ে বিষয়টি আলোচনা করেন আর বলেন যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয় সংশ্লিষ্ট কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করতেও পিছপা হবেন না।
এমন খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন বিভাগীয় যুগ্ম সঞ্চালক ডাঃ সুমনা নাইডিং। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখেন বলে জানা যায়।
এ দিকে, আইনজীবী তাহের আহমদ বড়ভূইয়া ফেসবুকে লেখেন, “এবলা বিচার কারে দিতাম। বার্থ সাটিফিকেট এর জন্য গিয়েছিলাম। হাসপাতালের ভিতরে প্রতিযোগিতা করে বলতে লাগলেন সরকারি কর্মচারীরা ২ হাজার থেকে রেইট বাহিরে আসলাম শেষ পর্যন্ত জেরক্সের দোকানের ভাই ও বললেন ভিতরে রেইট বেশী আমরা ১ হাজার এবার হাঁটতে হাঁটতে আরেকজন মুরব্বি বললেন প্রমান সহও এই দেখুন ৫ টা আমার হাতে এক কাজ করুন ৮০০ দিয়ে দেন।
এই জাতির পরিবর্তন কি করে সম্ভব মাথায় তকি গালে দাড়ি আর নির্লজ্জের মতন সরকারের চেয়ারে বসেও এমন টাকা দাবী করা। কিসের নামাজ কিসের রোজা কিসের ইবাদত কিসের মুসলমানি যেখানে উপার্জনের টাকায় হারাম হালাল পার্থক্য না রাখা।”
অর্থাৎ তাঁর অভিযোগে পরিস্কার এই বাণিজ্যে বেশ প্রতিযোগিতাও রয়েছে। যে যেভাবে পারে প্রমাণপত্রের জন্য আবেদন করা লোকদের নিজের দখলে রাখা। জেরক্সের দোকানি থেকে হাসপাতালের কর্মী সবাই গায়ে ছেঁটে দিলেন ‘দালাল’ শব্দটি। আর চালাচ্ছেন রমরমা ব্যবসা।

হাসপাতালে এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অসাধু কর্মী ও দালালরা দূরদূরান্ত থেকে আসা লোকদের এভাবে হয়রানি করেন। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে জন্ম-মৃত্যুর প্রমাণপত্র প্রদান করে চলে আসছেন। আর যদি কেও সরসারি আবেদন করেন তাহলে সেই প্রমাণপত্র পেতে বছরদিন লেগে যায়। আজ নয়, কাল এমনটা বলে মানুষকে ‘স্পিড মানি’ দিতে বাধ্য করা হয়। সম্প্রতি জন্মের প্রমাণপত্র ডিজিটাল করার সরকার পক্ষ থেকে নির্দেশ জারি হওয়ায় তাঁরা সোনায় সোহাগা। নানা অজুহাত দেখিয়ে আবেদনকারীকে বাঁকা পথে হাঁটতে বাধ্য করা হয়। এমন অবস্থা দেখে সম্প্রতি বদলি হওয়া হাসপাতালের ইনচার্জ ডাঃ সুলতান আহমদ মজুমদার কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। নিয়ম মতে নথিপত্র জমা দিলে সময়ের মধ্যে প্রদান করার ব্যবস্থা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, এমন কর্মকাণ্ডে আদালতে দু’টি মামলাও চলছে। আদালতে রয়েছে ২০১৭ ও ২০২১ সালের প্রমাণপত্রের কাউন্টার ফয়েল ও রেজিস্টার।



