১৬ মে : সেনা ঘাঁটিতে ফায়ারিং প্র্যাকটিসের সময়ে জুনিয়র কমিশনড অফিসারকে (JCO) গুলি করে খুনের অভিযোগ। অভিযোগের তির মেজর মনন তিওয়ারির বিরুদ্ধে। নিহত সেনা আধিকারিকের নাম সুবেদার মেজর ওম বাহাদুর খাণ্ড। শুক্রবার ভোরে মহারাষ্ট্রের পুলগাঁও সেনা ঘাঁটির ঘটনা। মনন অত্যন্ত কাছ থেকে ৫.৫৬ মিলিমিটার ইনসাস রাইফেল দিয়ে তাঁর জুনিয়রকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। বর্তমানে অভিযুক্ত মেজরকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুলগাঁও থানায় একটি FIR দায়ের করা হয়েছে ওই। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে সেনা ঘাঁটিতে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত মেজর মনন তিওয়ারি সেন্ট্রাল অ্যামিউনিশন ডিপো বা CAD-তে কর্মরত। ব্রিটিশ আমলে তৈরি এই পুলগাঁও ডিপো এশিয়ার সব থেকে বড় গোলা-বারুদের ডিপো। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ল্যান্স নায়েক বীর সিং ধামি জানিয়েছেন, ফায়ারিং প্র্যাকটিস শেষে আচমকাই সুবেদার মেজর ওম বাহাদুর খাণ্ডের উপর গুলি চালান মনন তিওয়ারি। ওম বাহাদুর সেই সময়ে মাঠ থেকে খালি কার্তুজ কুড়োচ্ছিলেন। গুলির আঘাতে ওম বাহাদুরের মাথা ফেটে যায় এবং রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনার পরেই অভিযুক্ত মেজর পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেখানে উপস্থিত বাকি সৈনিক সঙ্গে সঙ্গে অভিযুক্ত মেজর তিওয়ারিকে ধরে ফেলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওম বাহাদুরের শরীরে একাধিক ক্ষত পাওয়া গিয়েছে। অভিযুক্ত বর্তমানে সেনা হেফাজতে থাকলেও পরে তাকে ওয়ার্ধা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে তদন্তের শুরুতে ওয়ার্ধা পুলিশকে CAD ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
সেনা এবং ওয়ার্ধা পুলিশ যৌথ ভাবে এই ঘটনার তদন্ত করছে। মৃত ওম বাহাদুর খাণ্ড ‘ডিফেন্স সিকিউরিটি কোর’ বা DSC কর্মী ছিলেন। এই বিভাগে মূলত অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের পুনরায় নিয়োগ করা হয়। এই DSC ইউনিটগুলি গুরুত্বপূর্ণ সেনা ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকে। বিভিন্ন অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি থেকে গোলাবারুদ এনে সেনা ইউনিটগুলিতে পৌঁছে দেওয়া CAD-র কাজ।
প্রসঙ্গত, পুলগাঁওয়ের এই সেনা ঘাঁটিতে আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। ২০১৬ সালে এখানে অ্যান্টি-ট্যাঙ্ক মাইন বিস্ফোরণে এক লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদমর্যাদার অফিসার-সহ ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। পরে পুরোনো বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময়েও এখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছিল।



