LPG নিয়ে বড় চুক্তি, তেল মজুতেও পাশে আরব আমিরশাহি, যুদ্ধের আবহে বড় ‘ডিল’ মোদির

Spread the news

১৫ মে : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে পেট্রল-ডিজ়েল সরবরাহে টান পড়েছে। রান্নার গ্যাসেও হাহাকার। এই পরিস্থিতিতে পাঁচ দেশের সফরে শুক্রবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে পৌঁছেই দু’টি বড় চুক্তি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় এলপিজি সরবরাহ এবং পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়ে মউ সই করেছে দুই দেশ। একই সঙ্গে চুক্তি হয়েছে প্রতিরক্ষা খাতেও।

গত রবিবার তেলঙ্গানার একটি সভা থেকে পেট্রল, ডিজ়েল ব্যবহারে রাশ টানার কথা বলেছিলেন মোদী। পাশাপাশি আগামী এক বছরের জন্য বিদেশ ভ্রমণ এবং সোনা কেনা বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। জ্বালানি বাঁচাতেই স্কুল-কলেজ, অফিস-কাছারিতে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু উপরেও জোর দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই এ দিন পেট্রল-ডিজ়েলের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে দেয় তেল সংস্থাগুলি। সিএনজি-র দামও কেজি প্রতি ২ টাকা বেড়েছে। এর মধ্যেই এ দিন সংযুক্ত আরব আমিরশাহি পৌঁছন মোদি।

এ দিন দুপুর ১২টা নাগাদ আবু ধাবি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে মোদির বিমান। সেখানে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয় তাঁকে। তার পরে সোজা যান প্রেসিডেন্টের বাসভবনে। আমিরশাহির প্রেসিডেন্ট শেখ মহম্মদ বিন জায়ের আল নাইয়ানের সঙ্গে বৈঠকে বসেন তিনি। সেখানেই এলপিজি নিয়ে দুই দেশের চুক্তি স্বাক্ষর করে। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতে দীর্ঘমেয়াদে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। যুদ্ধের আবহে ভারতে রান্নার গ্যাসের সরবরাহে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলপিজি আমদানিকারক দেশ। ফলে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে এলিপিজি-র ভাঁড়ারে টান পড়ছে। যদিও পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে এই চুক্তিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম মজুত নিয়েও মউ সই করেছে দুই দেশ। এতে তেল মজুত ও জরুরি পরিস্থিতিতে যাতে জ্বালানির সঙ্কট না হয়, তার জন্য কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে ভারত এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। ভবিষ্যতে যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক সঙ্কট বা হঠাৎ তেলের দাম বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো সামলাতে আগে থেকেই তেল মজুত করে নয়াদিল্লি। এর জন্য এখন থেকে নয়াদিল্লিকে সাহায্য করবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি। মূলত সরবরাহে যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সেটাই দেখবে তারা।

একই সঙ্গে গুজরাটের ভাদিনারায় শিপ রিপেয়ার ক্লাস্টার তৈরি নিয়েও চুক্তি সই করেছে দুই দেশ। এখানে বাণিজ্যিক, তেলবাহী জাহাজ এবং মালবাহী জাহাজের মেরামতি হবে। পাশাপাশি কৌশলগত প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব নিয়েও চুক্তিও করেছে দুই দেশ। সামরিক ও নিরাপত্তা ক্ষেত্রেও একসঙ্গে কাজ করার রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *