১৮৯.৭৯ কোটি টাকার ‘মিজোরাম জিঞ্জার মিশন’ চালু, বিশ্ববাজারে ব্র্যান্ড হবে মিজো আদা

Spread the news

পিএনসি, নয়াদিল্লি।
১৫ মে : উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী Jyotiraditya M. Scindia বুধবার মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী Lalduhoma-কে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মিজোরাম জিঞ্জার মিশন’-এর সূচনা করেন। ১৮৯.৭৯ কোটি টাকার এই সমন্বিত প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল মিজোরামে আদা চাষ, প্রক্রিয়াকরণ ও মূল্য সংযোজনের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মিজো আদাকে একটি প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
উত্তর-পূর্ব উন্নয়ন মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই মিশনে কৃষি ও কৃষক কল্যাণ, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রকের বিভিন্ন প্রকল্পকে একত্রিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নাবার্ড, আইসিএআর, এপিডিএ এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় আদা প্রক্রিয়াকরণ ও বিপণনের আধুনিক পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ডোনার মন্ত্রকের সচিব সঞ্জয় জাজু মিশনের বাস্তবায়ন কাঠামো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, আদার প্রকৃত বাজারমূল্য নিশ্চিত করা, জিআই-প্রত্যয়িত পণ্যের সঠিক ব্যবহার এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি রোধ করাই এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি বহু-মন্ত্রণালয় সমন্বিত মডেলের মাধ্যমে সময়বদ্ধভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন। চাম্ফাই জেলার আদা চাষিরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফার্মাসিউটিক্যাল-গ্রেড আদা উৎপাদন করেও তাঁরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন মিশনের ফলে হাজার হাজার কৃষক পরিবার উপকৃত হবে বলে তাঁদের আশা।

বেসরকারি শিল্প মহলও ‘মিজোরাম জিঞ্জার মিশন’-কে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে। শিল্প প্রতিনিধিদের মতে, এই প্রকল্প মিজোরামের উচ্চমানের আদাকে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে এবং কৃষক-শিল্প অংশীদারিত্বের একটি সফল মডেল তৈরি করবে।

মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা বলেন, এই মিশন রাজ্যের কৃষি ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা করল। তিনি জানান, মিজোরামের ফার্মাসিউটিক্যাল-গ্রেড আদার বিশেষত্বকে সামনে রেখে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, মূল্য সংযোজন এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের নতুন পথ খুলে যাবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য এম সিন্ধিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi-র ‘খামার থেকে খাবার টেবিল’ ভাবনার ভিত্তিতেই এই প্রকল্প গড়ে উঠেছে। তাঁর বক্তব্য, শুধু ফসল উৎপাদন নয়, বরং প্রক্রিয়াকরণ, ব্র্যান্ডিং, প্যাকেজিং এবং রপ্তানির সঙ্গে কৃষকদের সরাসরি যুক্ত করাই সরকারের লক্ষ্য।
মন্ত্রী জানান, মিজো আদায় ৬-৮ শতাংশ ওলিওরেসিন রয়েছে, যা বিশ্ব গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। অথচ বর্তমানে কৃষকরা প্রতি কেজিতে মাত্র ৮ থেকে ১৫ টাকা পাচ্ছেন, যেখানে আন্তর্জাতিক বাজারে একই আদার মূল্য ৫০০ টাকারও বেশি। এই বৈষম্য দূর করতে সমবায় ও এফপিও কাঠামো শক্তিশালী করার ওপর জোর দেন তিনি। প্রকল্পের আওতায় একটি সমন্বিত প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র এবং তিনটি স্পোক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। প্রায় ২০ হাজার কৃষক পরিবারকে আধুনিক মূল্য-শৃঙ্খল ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপীয় বাজারে মিজো আদার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, ‘ব্র্যান্ড নর্থ ইস্ট’ উদ্যোগের অংশ হিসেবেই মিজোরামের আদাকে বিশেষ পরিচিতি দেওয়া হচ্ছে। যেমন সিকিম জৈব কৃষির জন্য, ত্রিপুরা কুইন আনারসের জন্য এবং মেঘালয় লাকাডং হলুদের জন্য পরিচিত, তেমনি ভবিষ্যতে মিজোরাম আদার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত হবে।

এদিকে, উত্তর-পূর্বভিত্তিক সিভিল সোসাইটি ‘ডঃ শ্যামা প্রসাদ মুখার্জি মেমোরিয়াল স্বার্থ সুরক্ষা পরিষদ’ ডোনার মন্ত্রককে ধন্যবাদ জানিয়েছে। পরিষদের সভাপতি হারাণ দে এক বিবৃতিতে বলেন, কয়েক বছর ধরেই মিজোরামের আদা চাষিদের সমস্যার বিষয়টি কেন্দ্রের নজরে আনা হয়েছিল। বাংলাদেশে রপ্তানি কমে যাওয়া এবং চীনা আদার প্রতিযোগিতার ফলে মিজোরামের কৃষকরা চরম সঙ্কটে পড়েছিলেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ‘মিজোরাম জিঞ্জার মিশন’ চালুর ফলে রাজ্যের আদা চাষিরা নতুন করে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *