১০ মে : পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার প্রভাব এবার ভারতের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশবাসীকে পেট্রল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারে আরও সাশ্রয়ী ও সংযমী হওয়ার আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। রবিবার হায়দরাবাদে এক সরকারি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিদেশি জ্বালানির উপর নির্ভরতা কমানোর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।
এদিন হায়দরাবাদে প্রায় ৯,৪০০ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ভার্চুয়াল শিলান্যাস করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে ভারতের অর্থনীতির সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ভারত এখনও জ্বালানি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বনির্ভর নয়। দেশের চাহিদার বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয় এবং তার জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সময়ে পেট্রল, ডিজেল কিংবা গ্যাসের মতো জ্বালানি অত্যন্ত বুঝেশুনে ব্যবহার করতে হবে। যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই খরচ করা উচিত। আমদানিকৃত জ্বালানির অপচয় রোধ করা গেলে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে, তেমনই পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে তৈরি হওয়া বৈশ্বিক সংকটের প্রভাবও মোকাবিলা করা সহজ হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে সাম্প্রতিক অস্থিরতা ভারতের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে সাময়িকভাবে উদ্বেগের মুখে ফেলেছিল। সেই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই সাশ্রয়ী ব্যবহারের বার্তা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
একইসঙ্গে বিকল্প শক্তির দিকেও ভারতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, সৌরশক্তি উৎপাদনে ভারত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ। পাশাপাশি পেট্রলের সঙ্গে ইথানল মিশ্রণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং এলপিজির পরিবর্তে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ দেশের জ্বালানি আমদানির চাপ অনেকটাই কমাতে সাহায্য করছে। ভবিষ্যতে এই বিকল্প ব্যবস্থাগুলিই ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার প্রধান ভরসা হয়ে উঠবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



