ধর্মনগরে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য প্রভাতী অনুষ্ঠান ‘কবি প্রণাম’

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ মে : বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৪তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তর এবং ধর্মনগর পুর পরিষদের যৌথ উদ্যোগে ধর্মনগরের ঐতিহ্যবাহী কালিদিঘির উত্তর পাড়ে অনুষ্ঠিত হলো এক মনোমুগ্ধকর প্রভাতী অনুষ্ঠান ‘কবি প্রণাম’। সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে ছিল এক অন্যরকম আবহ। কবিগুরুর গান, আবৃত্তি এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষের উপস্থিতিতে যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয় কালিদিঘির উত্তর পাড়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫৬ ধর্মনগর বিধানসভা কেন্দ্রের নবনির্বাচিত বিধায়ক জহর চক্রবর্তী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য কাজল কুমার দাস। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য মহিলা কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারপার্সন বর্ণালী গোস্বামী, জেলাভিত্তিক সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য দিপাল দাস এবং অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ধর্মনগর পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন মিতালী রানী দাস সেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক তথা মহকুমা তথ্য ও সাংস্কৃতিক কার্যালয়ের বরিষ্ঠ তথ্য আধিকারিক সঞ্জীব কুমার দাস, পুর পরিষদের একাধিক কাউন্সিলর, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং সংস্কৃতিপ্রেমী সাধারণ মানুষ।

অনুষ্ঠানের সূচনায় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। প্রথমে বিধায়ক জহর চক্রবর্তী কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করেন। এরপর উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিবর্গ একে একে কবিগুরুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। এসময় পরিবেশ ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও মর্যাদাপূর্ণ।

মাল্যদান পর্বের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের শিল্পীরা একের পর এক হৃদয়স্পর্শী রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করেন। পাশাপাশি নির্ধারিত চারটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাও নৃত্য, সংগীত ও আবৃত্তির মাধ্যমে কবিগুরুর সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে। ছোট ছোট শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। অনুষ্ঠানের প্রতিটি মুহূর্ত যেন বিশ্বকবির চেতনা ও মানবতাবাদের বার্তা বহন করে নিয়ে আসে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধুমাত্র বাংলা সাহিত্যের নন, তিনি সমগ্র বিশ্বের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর সাহিত্য, সংগীত, দর্শন ও মানবতাবাদ আজও সমাজকে পথ দেখায়। নতুন প্রজন্মের কাছে রবীন্দ্রচর্চা আরও বেশি করে পৌঁছে দিতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম বলেও মত প্রকাশ করেন তাঁরা।

তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, অনুষ্ঠানের ফ্লাক্স ও আমন্ত্রণপত্রে বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের নাম উল্লেখ থাকলেও আজকের এই প্রভাতী অনুষ্ঠানে জেলা শিক্ষা দপ্তরের কোনো প্রতিনিধিকে দেখা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে উপস্থিত মহলে কিছুটা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সব মিলিয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এই ‘কবি প্রণাম’ অনুষ্ঠান ধর্মনগরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এক বিশেষ মাত্রা যোগ করেছে। সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির আবহে উদযাপিত এই অনুষ্ঠান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে উপস্থিত মানুষের কাছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *