অকালে প্রয়াত সমর্পণ দেব, শোক

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৯ মে : হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কোমায়, তারপর মৃত্যু বছর তেইশের যুবকের। জানা যায়, তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয়ের কর্মী সীমা দেবের একমাত্র পুত্র সমর্পণ দেব বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আচমকাই তীব্র পেট ও মাথাব্যথা শুরু হয়। দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় পরিবারের সদস্যরা তাকে তুলাপট্টির কেসি নার্সিং হোমে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে অবিলম্বে শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন। পরে তাকে মেডিসিন বিভাগের আইসিইউ-তে ভর্তি করে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি কোমায় চলে যান। শুক্রবার ভোর প্রায় ৩টা ৩০ মিনিটে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

চিকিৎসকেরা সমর্পণকে বাঁচাতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালান। জেলা প্রশাসন এবং জেলা তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকেও চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। শিলচর মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ ভাস্কর গুপ্ত, ডাঃ বিকাশ শ্যান্ডিল্য, ডাঃ রামু দাস, ডাঃ ডিজে শর্মা এবং ডাঃ তনুশ্রী দেব গুপ্ত-সহ একাধিক অভিজ্ঞ চিকিৎসক তার চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন।

ভেন্টিলেশনে থাকার কারণে তার ব্রেন স্ক্যান করা সম্ভব হয়নি। শেষ চেষ্টা হিসেবে লাম্বার পাংচারও করা হয়। কিন্তু সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শেষরাতে নিভে যায় এক তরুণ প্রাণের আলো। শিলচর শ্মশানঘাটে সম্পন্ন হয় সমর্পণের শেষকৃত্য। অশ্রুসিক্ত পরিবেশে আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা শেষ শ্রদ্ধা জানান অকালপ্রয়াত এই তরুণকে।

উল্লেখ্য, সমর্পণের বাবা আশুতোষ দেবও তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের শিলচর কার্যালয়ের কর্মী ছিলেন। ২০১৩ সালে চাকরিরত অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই এবার একমাত্র সন্তানকেও হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন মা সীমা দেব, যিনি বর্তমানে তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগের বরাক উপত্যকার আঞ্চলিক কার্যালয়ে কর্মরত।

সমর্পণের অকাল মৃত্যুতে তথ্য ও জনসংযোগ বিভাগসহ সর্বস্তরে নেমে এসেছে গভীর শোক। এত অল্প বয়সে এক তরুণের এভাবে চলে যাওয়া আবারও মনে করিয়ে দিল জীবনের অনিশ্চয়তার নির্মম বাস্তবতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *