বঙ্গে পদ্মের ঐতিহাসিক উত্থান! প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ শুভেন্দু অধিকারীর — পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ

Spread the news

।। এসএম জাহির আব্বাস ।।
(সাংবাদিক, শ্রীভূমি)
৯ মে : পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক আকাশে যেন এক নতুন সূর্যোদয়! দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গে শুরু হলো এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের যুগ। ‘ঘাসফুল’ পেরিয়ে এবার বাংলার মসনদে ফুটলো পদ্ম। আর সেই ইতিহাসের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিজেপির জননেতা শুভেন্দু অধিকারী। কলকাতার রাজভবন থেকে গ্রামবাংলার অলিগলি—সবখানেই এখন উৎসব, উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্নের আবহ। দেশের জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী তথা আগামীর বিশ্বগুরু নরেন্দ্র মোরির উপস্থিতিতে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ যেন শুধু রাজনৈতিক ঘটনা নয়, বরং বাংলার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত। শান্তি, উন্নয়ন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং ‘সোনার বাংলা’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে নতুন যাত্রা শুরু করলো পশ্চিমবঙ্গ। আর এই পরিবর্তনের প্রভাব এখন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা দেশজুড়ে। প্রশ্ন একটাই নতুন নেতৃত্বে কেমন হবে আগামী দিনের বাংলা?”

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো পূর্ব ভারতের গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে। দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজনৈতিক অধ্যায়ের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাংলার ক্ষমতায় এলো ভারতীয় জনতা পার্টি। আর সেই ঐতিহাসিক পালাবদলের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন বিজেপির অন্যতম প্রভাবশালী এবং জনভিত্তিসম্পন্ন নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার কলকাতার রাজভবনে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করে ইতিহাস রচনা করলেন তিনি। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে ঘিরে গোটা বাংলা তো বটেই, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে এই পরিবর্তন শুধু সরকার বদলের ঘটনা নয় এটি পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক সমীকরণে এক নতুন যুগের সূচনা।

শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ  বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সভাপতি নীতিন নবীন। জেপি নাড্ডা একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, বিভিন্ন বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের শীর্ষ নেতারা। রাজভবন চত্বর থেকে কলকাতার রাজপথ সবখানেই ছিল কড়া নিরাপত্তা, উচ্ছ্বাস এবং উৎসবমুখর আবহ।

৩০২৬ মহারণে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন
দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখা শাসকদলের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ, দুর্নীতি, রাজনৈতিক হিংসা, বেকারত্ব এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ইস্যুকে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামে বিজেপি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নমুখী ভাবনা, অমিত শাহের সাংগঠনিক কৌশল এবং শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূল স্তরের জনসংযোগ এই ত্রিমুখী সমন্বয় বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণে বড় ভূমিকা নেয় বলে মত রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ফলাফল বাংলার মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষারই বহিঃপ্রকাশ। “শান্তি, উন্নয়ন এবং সুশাসন এই তিন মূল মন্ত্রকে সামনে রেখেই বিজেপি বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে।

সোনার বাংলা গড়ার অঙ্গীকার
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর নিজের প্রথম ভাষণে  শুভেন্দু অধিকারী  বলেন এই জয় কোনো ব্যক্তি বা দলের জয় নয়, এটি বাংলার মানুষের জয়। বাংলাকে শান্তি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক গৌরবের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই হবে আমাদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি আরও জানান, সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের নিরাপত্তা, শিল্পায়ন, কৃষি উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং যুব সমাজের কর্মসংস্থানের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

অসম থেকে শুভেচ্ছার ঢল
পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ঘিরে অসমেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে বরাক উপত্যকায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উদযাপন ছিল চোখে পড়ার মতো।অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ উন্নয়ন, নিরাপত্তা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন। এই ঐতিহাসিক বিজয় পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। অসম ও পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘ সাংস্কৃতিক, ভাষাগত এবং আত্মিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, আগামী দিনে দুই রাজ্যের মধ্যে উন্নয়নমূলক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি পাবে।

সনাতনী সংস্কৃতির নতুন জাগরণ?
রাজনৈতিক মহলে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়গুলোর একটি হলোপূর্ব ভারতে সনাতনী সাংস্কৃতিক পুনর্জাগরণের প্রশ্ন। অংগ, বংগ, কলিংগ এবং প্রাগজ্যোতিষের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের উল্লেখ করে বিজেপি নেতৃত্ব দাবি করছে, এই পরিবর্তন ভারতের প্রাচীন সভ্যতা, সংস্কৃতি এবং ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষার আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।মা কামাখ্যা, মা দক্ষিণা কালী, মা ত্রিপুরা সুন্দরী এবং মা তারা তারিণীর আশীর্বাদে পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্য আরও সুদৃঢ় হবে বলেও মন্তব্য করেছেন একাধিক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিশ্লেষক।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন আকাশছোঁয়া
কলকাতা থেকে কোচবিহার, জঙ্গলমহল থেকে সীমান্তবর্তী জেলা  জায়গাতেই এখন সাধারণ মানুষের একটাই প্রত্যাশা, নতুন সরকার যেন দ্রুত উন্নয়নমূলক কাজ শুরু করে।বিশেষ করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি শিল্প বিনিয়োগ নারী নিরাপত্তা দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণসীমান্ত নিরাপত্তা গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার আধুনিকীকরণ এই বিষয়গুলোর ওপর নতুন সরকারের ভূমিকা কেমন হবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মত
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির এই জয় ২০২৯ সালের জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ পূর্ব ভারতে বিজেপির এই শক্তিশালী অবস্থান জাতীয় রাজনীতিতে নতুন ভারসাম্য তৈরি করবে। এছাড়াও সীমান্তবর্তী রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। ফলে কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়ে আগামী দিনে নিরাপত্তা ও উন্নয়ন—দুই ক্ষেত্রেই বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যজুড়ে উৎসবের আবহ
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় চলছে বিজয় মিছিল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবির খেলা এবং মিষ্টি বিতরণ। কলকাতার রাজপথ থেকে গ্রামবাংলার অলিগলিসবখানেই এখন উৎসবের আবহ।বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কথায় এটি শুধু সরকার পরিবর্তন নয়, বাংলার ভবিষ্যৎ পরিবর্তনের সূচনা। এখন গোটা দেশের নজর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী -এর প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচি এবং তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ রোডম্যাপের দিকে। ইতিহাস সাক্ষী থাকে সেই সব মুহূর্তের, যখন পরিবর্তনের হাওয়া শুধু সরকার বদলায় না বদলে দেয় মানুষের আশা স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের দিকনির্দেশ। পশ্চিমবঙ্গের এই রাজনৈতিক পালাবদলও ঠিক তেমনই এক অধ্যায়, যা আগামী দিনের পূর্ব ভারতের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে চলেছে।

এখন বাংলার মানুষের চোখে নতুন প্রত্যাশা, নতুন স্বপ্ন। শান্তি, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে ‘সোনার বাংলা’ গড়ার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, তা বাস্তবায়নের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা দেশ। রাজনৈতিক উত্তাপের অধ্যায় পেরিয়ে এবার উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা এবং জনকল্যাণের রাজনীতিতে কত দ্রুত এগোতে পারে নতুন সরকার—সেই উত্তরই দেবে আগামী সময়।
পূর্ব ভারতের এই নতুন রাজনৈতিক সূর্যোদয় এখন শুধু বাংলার নয়, জাতীয় রাজনীতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে। আর তাই গোটা দেশের নজর এখন একটাই  শুভেন্দু-র নতুন নেতৃত্বে কেমন হবে আগামী দিনের বাংলা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *