৭ মে : বিমান পরিষেবা ও নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিলেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। বৃহস্পতিবার ইন্ডিগোর একটি বিমানে দিল্লি যাওয়ার পথে একদল ব্যক্তির হাতে ‘হেনস্তা’র শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। শুধু তাই নয়, তাঁর অনুমতি ছাড়াই ভিডিও তোলা হয়েছে বলেও দাবি কৃষ্ণনগরের সাংসদের। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে ‘নো-ফ্লাই লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে যোগ দিতে এদিন ইন্ডিগোর 6E 719 বিমানে দিল্লি যাচ্ছিলেন মহুয়া মৈত্র। তিনি ১-এফ (1F) আসনে বসেছিলেন। সাংসদের অভিযোগ, ৪ থেকে ৬ জন ব্যক্তির একটি দল বিমানে ওঠার পর থেকেই তাঁর দিকে কুদৃষ্টিতে তাকাচ্ছিল এবং তাঁকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গি করছিল। পরিস্থিতি চরম আকার নেয় বিমানটি দিল্লির রানওয়ে ছোঁয়ার পর। অভিযোগ, বিমানের দরজা খোলার আগেই ওই ব্যক্তিরা মোবাইলে মহুয়ার ভিডিও রেকর্ড করতে শুরু করে। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও (ভিডিওটির সত্যতা যাচাই করেনি উত্তরবঙ্গ সংবাদ) সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে মহুয়াকে লক্ষ্য করে বিমানে স্লোগান উঠছে— “পিসি চোর, ভাইপো চোর, তৃণমূলের সব চোর।”
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ফল নিয়ে জনরোষের কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে— এমন সম্ভাবনাকে সাফ নাকচ করে দিয়েছেন মহুয়া। সোশ্যাল মিডিয়া সাইট এক্সে (X) তিনি লেখেন, “এটা কোনও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ নয়। এটা স্পষ্টত হেনস্তা এবং বিমানের ভেতরে আমার নিরাপত্তা লঙ্ঘন।”
মহুয়া মৈত্র এই ঘটনায় সরাসরি অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডু কিঞ্জারাপুকে ট্যাগ করেছেন। তাঁর দাবি, অভিযুক্তদের অবিলম্বে শনাক্ত করে ব্ল্যাকলিস্ট করতে হবে। পাশাপাশি ক্রু মেম্বারদের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অভিযুক্তদের প্রকাশ্যে আনার দাবিও জানিয়েছেন তিনি। মহুয়া এই পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব ও এমকে স্টালিনকেও ট্যাগ করেছেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে তিনি একে নারী নিরাপত্তার বৃহত্তর সংকটের অংশ হিসেবে দেখছেন। ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও, অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে বলে সূত্রের খবর।



