বরাক তরঙ্গ, ২৩ এপ্রিল : প্রয়াত বাবার স্বপ্ন, মায়ের অক্লান্ত ত্যাগ এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে সঙ্গী করে টিলাগাঁওয়ের কন্যা তামান্না আজ চিকিৎসক হিসেবে গৌরবময় সাফল্য অর্জন করেছেন। ছোট্ট গ্রাম থেকে উঠে এসে তাঁর এই জয়যাত্রা এখন সমগ্র এলাকার গর্ব ও অনুপ্রেরণার উৎস।
ত্রিপুরার কৈলাশহরের টিলাগাঁও গ্রাম পঞ্চায়েতের ধলিয়ার কান্দি মহাজন বাড়ি—সবুজে ঘেরা এক সাধারণ গ্রাম। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই জন্ম নেয় তামান্নার বড় স্বপ্ন। সেই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অক্লান্ত পরিশ্রম, অদম্য মানসিক শক্তি ও দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে আজ তিনি হয়েছেন ডঃ তামান্না।
তামান্নার সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় প্রেরণা ছিলেন তাঁর প্রয়াত বাবা মাস্টার আব্দুল হান্নান। সৎ, পরিশ্রমী ও স্বপ্নবান এই মানুষটি মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়তে নিজের সামর্থ্যের সীমা ছাড়িয়ে চেষ্টা করেছিলেন। আর্থিক কষ্ট ও জীবনের নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সবসময় চেয়েছিলেন মেয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হোক। তাঁর উৎসাহ, ভালোবাসা ও বিশ্বাস তামান্নাকে প্রতিনিয়ত এগিয়ে যেতে শক্তি জুগিয়েছে।
তবে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস—তামান্না যখন সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছেন, তখন তাঁর সেই স্বপ্নদ্রষ্টা বাবা আর বেঁচে নেই। মেয়ের নামের আগে “ডাঃ” শব্দটি দেখার স্বপ্ন তাঁর অপূর্ণই থেকে গেল। এই বেদনাই তামান্নার জীবনের সবচেয়ে বড় কষ্ট হয়ে রয়েছে।
বাবার মৃত্যুর পর সংসারের সমস্ত দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন তাঁর মা। অসীম ত্যাগ, ধৈর্য ও মমতায় মেয়ের পাশে থেকে তিনি প্রতিটি কঠিন মুহূর্তে সাহস জুগিয়েছেন। নিজের কষ্ট আড়াল করে শুধু একটি লক্ষ্যই সামনে রেখেছিলেন—মেয়েকে সফল দেখতে হবে। একজন মায়ের এই আত্মত্যাগই তামান্নার সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
আজ ডাঃ তামান্নার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়; এটি একটি পরিবারের স্বপ্নপূরণ, একটি গ্রামের গর্ব এবং অসংখ্য তরুণ-তরুণীর জন্য এক জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তাঁর সাফল্য প্রমাণ করে, অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও কঠোর পরিশ্রম থাকলে কোনও স্বপ্নই অধরা থাকে না।
এই অসাধারণ সাফল্যের জন্য তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কৈলাশহর জেলা ইমাম কমিটির সংগঠনিক সম্পাদক আব্বাস আলি আল জালিলি। তিনি বলেন, “তামান্নার এই অর্জন আমাদের সমাজের জন্য গর্বের। ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায় থাকলে অসম্ভবও সম্ভব হয়—তামান্না তারই উজ্জ্বল উদাহরণ।”
আজ টিলাগাঁও, ধলিয়ার কান্দি এবং সমগ্র টিলাবাজার গর্বিত। কারণ এই মাটির মেয়ে ডাঃ তামান্না শুধু একজন চিকিৎসক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন সংগ্রাম, আশা ও অনুপ্রেরণার এক জীবন্ত প্রতীক।



