খনিজ সম্পদের অবৈধ লুণ্ঠন ও বাংলাদেশ সীমান্তে বেআইনি পরিবহণ নিয়ে উচ্চ আদালতের কড়া অবস্থান

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ২৩ এপ্রিল : মেঘালয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা খনিজ সম্পদের অবৈধ লুণ্ঠন এবং বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে নিয়মবহির্ভূতভাবে খনিজ বহনকারী ট্রাকগুলির অবাধ চলাচলের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে মেঘালয় উচ্চ আদালত। এই ঘটনায় আদালত স্বতঃপ্রণোদিতভাবে একটি মামলা রুজু করেছে। বৈধ অনুমতিপত্র বা চালান ছাড়াই সীমান্তমুখী এসব ট্রাক চলাচল প্রশাসন, বন দফতর এবং সীমান্ত নিরাপত্তা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, মেঘালয়ের বিভিন্ন দুর্গম এলাকা থেকে বিশেষ করে কয়লা ও অন্যান্য মূল্যবান খনিজ বহনকারী ট্রাকগুলি কোনও ধরনের সরকারি অনুমতি বা পরিবেশ সংক্রান্ত নিয়ম না মেনেই বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে চলাচল করছে। আদালত এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এর ফলে রাজ্যের বিপুল রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে, পাশাপাশি পরিবেশের সূক্ষ্ম ভারসাম্যের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট অতিক্রম করে কীভাবে এত সংখ্যক বেআইনি ট্রাক চলাচল করছে, তা নিয়ে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে দ্রুত একটি বিস্তারিত শপথনামা-সহ প্রতিবেদন দাখিল করতে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, শক্তিশালী ভূমি-মাফিয়া ও অসাধু ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কিছু আধিকারিকের গোপন যোগসাজশ থাকতে পারে। উল্লেখযোগ্য যে, এর আগেও জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল মেঘালয়ে অবৈজ্ঞানিক ‘র‍্যাট-হোল মাইনিং’ নিষিদ্ধ করেছিল, কিন্তু বাস্তবে এই অবৈধ কার্যকলাপ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। আদালতের এই পদক্ষেপে দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রগুলির মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সীমান্তমুখী এই ট্রাকগুলির রুটে নজরদারি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে অবৈধ খনিজ পরিবহণ হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চস্তরের তদন্তের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজকর্মীরা এই বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে শতাধিক ট্রাক চলাচলের ফলে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে, শব্দ দূষণ বাড়ছে এবং সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আদালতের নির্দেশে এবার এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশাবাদী সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *