২১ এপ্রিল : রাজারহাটে ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে কোটি কোটি টাকার প্রতারণার পুরনো মামলাতেই ফের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটরের তলবের মুখে পড়লেন অভিনেত্রী তথা বসিরহাটের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ নুসরত জাহান। আগামী বুধবার তাঁকে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইডি সূত্রে খবর, রাজারহাট এলাকায় ফ্ল্যাট দেওয়ার নাম করে কয়েক কোটি টাকা প্রতারণার যে অভিযোগ উঠেছিল, সেই তদন্তে গত কয়েক মাসে বেশ কিছু নতুন তথ্য ও নথি কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে এসেছে। ২০১৪-১৫ সালে ‘সেভেন সেন্সেস ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থা প্রায় ৪০০-র বেশি প্রবীণ নাগরিকের কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করে নিয়েছিল। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল ১,০০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট দেওয়ার। কিন্তু বছরের পর বছর কেটে গেলেও কেউ ফ্ল্যাট পাননি, টাকাও ফেরত পাননি। নুসরত ওই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর ছিলেন বলেই অভিযোগ। সেই সূত্রেই এই দ্বিতীয় দফার জিজ্ঞাসাবাদ।
বুধবার হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ থাকলেও ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, নুসরত সিজিও কমপ্লেক্সে যেতে কিছুটা অনিচ্ছাপ্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ওই সময় তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে দিল্লিতে থাকবেন। তাই তিনি তদন্তকারীদের কাছে আর্জি জানিয়েছেন, তাঁকে যেন ওই দিন দিল্লির ইডি দপ্তরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাঁর এই আর্জি ইডি কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, বিজেপি নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়ে ইডি-র কাছে এই প্রতারণার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। এর আগে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নুসরতকে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। সেই সময় প্রায় ৬ ঘণ্টা ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অভিনেত্রী প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছেন। তাঁর দাবি ছিল, তিনি সংস্থার থেকে ঋণ নিয়েছিলেন এবং তা সুদসহ পরিশোধ করে দিয়েছেন। এমনকি ডিরেক্টর পদ থেকেও পদত্যাগ করেছিলেন বলে তিনি দাবি করেন। তবে বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রাক্তন সাংসদের এই দ্বিতীয়বার ইডি তলব রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এখন দেখার, বুধবার তিনি দিল্লির দফতরে যান নাকি কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সেই তাঁকে হাজিরা দিতে হয়।



