মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৬ এপ্রিল : বাজারিছড়া থানার অন্তর্গত কালাছড়া এলপি স্কুল সংলগ্ন লোয়াইরপোয়া-কানমুন সড়কে গভীর রাতে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। একটি যাত্রীবাহী অটো রিকশা ও একটি মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে চারপাশ। আতঙ্কিত হয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এই দুর্ঘটনায় মোট ৯ জন আহত হন। তাঁদের মধ্যে বাইক চালক লালবাবু লোহার (২৬) এবং তাঁর সঙ্গী প্রদীপ নুনিয়ার অবস্থা আশঙ্কাজনক। সংঘর্ষের তীব্রতায় তাঁরা গুরুতরভাবে জখম হন। অন্যদিকে অটোর চালক প্রীতম পাল (২৩) সহ ছয়জন যাত্রী আহত হন। গুরুতর আহতদের মধ্যে রয়েছেন সন্দীপ দেব (৩২), মুক্তা রানি দেব (৩০) ও প্রতিমা পাল (৫০)।
এছাড়া একই পরিবারের সন্দীপ দেবের দুই পুত্র শান দেব (১৪) ও সপ্তম দেব (৭) এবং তাঁর মা গীতা রানি দেব (৬৫) অল্পবিস্তর আঘাত পান। এক পরিবারের এতজন একসঙ্গে দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় এলাকায় শোক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, AS-10-BC-1926 নম্বরের একটি পেট্রোলচালিত অটো বাজারিছড়া থেকে কটামণির দিকে যাচ্ছিল। অন্যদিকে AS-11-A-7845 নম্বরের স্প্লেন্ডার মোটরবাইকে করে দুই যুবক ইচাবিল থেকে বাজারিছড়ার দিকে আসছিলেন। কালাছড়া এলপি স্কুল সংলগ্ন সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে হঠাৎই দুই বাহনের মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে দু’টি গাড়িই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। আহতদের প্রথমে বাজারিছড়া সহায়ক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে গুরুতরদের মাকুন্দা খ্রিষ্টিয়ান লেপ্রসি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে বাজারিছড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহন দুটি উদ্ধার করে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পুলিশ আধিকারিকরা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের শারীরিক অবস্থারও খোঁজ নেন।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত লালবাবু লোহার ও তাঁর সঙ্গীর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের শিলচর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার বিকেলে অটোর যাত্রীদের মধ্যেও তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁদেরও শিলচরে রেফার করা হয়।
অন্যদিকে, অটোর বাকি যাত্রীদের আঘাত তুলনামূলক কম হওয়ায় চিকিৎসার পর তাঁদের মাকুন্দা হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আহতদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, অটোর যাত্রীদের মধ্যে একই পরিবারের পাঁচজন সদস্য ছিলেন, যাঁদের বাড়ি কটামণি এলাকায়। অপরদিকে গুরুতর আহত বাইক আরোহীদের বাড়ি ইচাবিল চা বাগানের ১২ নম্বর লাইনে। ফলে এই দুর্ঘটনা দুই এলাকার মানুষকেই গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে নিয়ে এল।



