বদরপুরে প্রথমবারেই ইতিহাস গড়ল আজমল সুপার ৪০

Spread the news

মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ১১ এপ্রিল : প্রথমবারের চেষ্টাতেই যখন সাফল্য ছুঁয়ে যায় আকাশ, তখন তা শুধু ফলাফল নয় একটি ইতিহাস। বদরপুরের আজমল সুপার ৪০ ঠিক তেমনই এক নজির গড়েছে এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষায়। শতভাগ পাস, একাধিক ডিস্টিংশন, রাজ্যসেরা নম্বর এবং জেলার সেরাদের তালিকায় উজ্জ্বল উপস্থিতি সব মিলিয়ে এই সাফল্য যেন কঠোর পরিশ্রম, সঠিক দিকনির্দেশনা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।এবছর প্রথমবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেই নজিরবিহীন সাফল্য অর্জন করল বদরপুরের আজমল সুপার ৪০। জেলার শিক্ষা অঙ্গনে এক নতুন ইতিহাস রচনা করে এই প্রতিষ্ঠান প্রমাণ করে দিল, সঠিক দিকনির্দেশনা, অধ্যবসায় এবং নিষ্ঠার সমন্বয় ঘটলে সাফল্য অবধারিত। চলতি বছরে এই প্রতিষ্ঠান থেকে প্রথমবারের মতো মোট ২৪ জন শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং গর্বের বিষয়—সকলেই কৃতকার্য হয়। শতভাগ পাসের এই সাফল্য শুধু সংখ্যার দিক থেকেই নয়, গুণগত মানের দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তীর্ণদের মধ্যে ২০ জন প্রথম বিভাগে এবং ৪ জন দ্বিতীয় বিভাগে পাশ করে। এছাড়াও ৫ জন শিক্ষার্থী ডিস্টিংশন এবং ৬ জন স্টার মার্কস অর্জন করে, মোট লেটার এসেছে ৬৩টি—যা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ছাত্রছাত্রীদের মেধার স্পষ্ট প্রতিফলন।

এই সাফল্যের মুকুটে সবচেয়ে উজ্জ্বল রত্ন হলেন প্রতিষ্ঠানের ছাত্রী আজরা ফাতিমা চৌধুরী। তিনি ৯৫.১৭ শতাংশ নম্বর পেয়ে জেলার মধ্যে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে প্রতিষ্ঠানকে এনে দিয়েছেন বিশেষ সম্মান। শুধু তাই নয়, ঐচ্ছিক গণিতেও তিনি রাজ্যসেরা হয়ে ১০০-র মধ্যে পূর্ণ ১০০ নম্বর অর্জন করে অসাধারণ কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তার এই সাফল্য অন্যান্য শিক্ষার্থীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

অন্যদিকে, জেরিন হাসান বড়ভুইয়া ৯৪.৫ শতাংশ নম্বর অর্জনের পাশাপাশি গণিতে পূর্ণ নম্বর পেয়ে রাজ্যসেরার তালিকায় নিজের নাম উজ্জ্বল করেছেন। এছাড়াও মুরাদ মোহাম্মদ আরিফ (৮৯.৫%), কুহিনুর আক্তার বড়ভুইয়া (৮৯.১৭%) এবং তৌসিদ আলম লস্কর (৮৬.৫%) ডিস্টিংশন অর্জন করে প্রতিষ্ঠানের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।ফলাফল ঘোষণার পরপরই আজমল সুপার ৪০, বদরপুর ক্যাম্পাসে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবকসহ সকলেই এই ঐতিহাসিক সাফল্য উদযাপনে মেতে ওঠেন। প্রতিষ্ঠানে আয়োজন করা হয় এক সংবর্ধনা সভার, যেখানে কৃতী ছাত্রছাত্রী, তাদের অভিভাবক এবং শিক্ষকদের সম্মাননা জানানো হয় ঐতিহ্যবাহী গামোছা দিয়ে। পাশাপাশি মিষ্টি বিতরণের মাধ্যমে আনন্দভাগ করে নেওয়া হয় সবার সঙ্গে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মূল্যবান বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মনজুর হাসান বড়ভূইয়া, চিফ অ্যাডমিনিস্ট্রেটর আসার উদ্দিন, অ্যাকাডেমিক ইনচার্জ বাহারুল ইসলামসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ। তারা শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যকে ভবিষ্যতের আরও বড় অর্জনের প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান এবং তাদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এ জেড এম ইকবাল খান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *