মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১০ এপ্রিল : প্রশাসন কাড়া নিরাপত্তা মধ্যে দিয়ে জনগণের স্বতস্ফুর্ত উপস্থিতিতে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো ১২৫ নম্বর পাথারকান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন, কিন্তু ভোট শেষ হলেও উত্তেজনার পারদ এখনও তুঙ্গে। নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও বাস্তবে লড়াই গড়ে উঠেছে দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি—বিজেপির কৃষ্ণেন্দু পাল ও কংগ্রেসের কার্তিকসেনা সিনহার মধ্যে। ভোট গ্রহণ শেষ হতেই শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনার ঝড়—শেষ পর্যন্ত পাথারকান্দির রাজমুকুট কার দখলে যাবে? এই প্রশ্নেই এখন সরগরম গোটা এলাকা। গত ৯ এপ্রিল, দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ছাপিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই সম্পন্ন হয় ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে দেখা যায় দীর্ঘ লাইন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির ভোটারের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি গণতন্ত্রের প্রতি মানুষের আস্থা ও দায়িত্ববোধের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে ওঠে। অনেক জায়গায় প্রথমবারের ভোটারদের মধ্যেও লক্ষ্য করা গেছে উৎসাহ ও আগ্রহ। এবারের নির্বাচনে মোট নয়জন প্রার্থী থাকলেও শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল যে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ থাকবে কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যেই। প্রচারপর্বে দুই দলের নেতাদের তীব্র বাকযুদ্ধ, উন্নয়নকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি দাবি, এবং ভোটারদের মন জয় করার মরিয়া প্রচেষ্টা পাথারকান্দির রাজনৈতিক আবহকে ক্রমশ উত্তপ্ত করে তুলেছিল। ভোটের দিন সেই উত্তেজনারই প্রতিফলন দেখা গেল ভোটকেন্দ্রগুলিতে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে কার্যত দ্বিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার ছবি স্পষ্ট। একদিকে রাজ্যের কেবিনেট মন্ত্রী তথা দুইবারের বিধায়ক কৃষ্ণেন্দু পাল, অন্যদিকে প্রাক্তন বিধায়ক কংগ্রেস নেতা কার্তিকসেনা সিনহা এই দুই নেতার মধ্যে সরাসরি লড়াই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। কে শেষ পর্যন্ত জয়মাল্য পরবেন, তা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।ভোট শেষ হতেই পাথারকান্দির বিভিন্ন চায়ের দোকান, বাজার, গ্রামাঞ্চলের মোড় থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি—সবখানেই এখন একটাই আলোচনা, “কার মাথায় উঠবে জয়ের মুকুট?” সাধারণ ভোটার থেকে রাজনৈতিক কর্মী সবাই নিজেদের মতো করে হিসেব কষতে ব্যস্ত। আগের দিনের মতো কাগজ-কলমে নয়, এখন সেই হিসেব-নিকেশ চলছে মোবাইল ফোনে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এবং হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে।বিজেপি শিবিরে আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে। তাদের দাবি, বাঙালি ভোটের বড় অংশের পাশাপাশি চা-বাগান এলাকার ভোটারদের সিংহভাগ, জনজাতি ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ এবং তথাকথিত “পণিপুরি ভোট”ও তাদের পক্ষেই গেছে। এমনকি সংখ্যালঘু ভোটের একাংশও এবার বিজেপির ঝুলিতে এসেছে বলে তারা মনে করছে। এই সমীকরণকে সামনে রেখে বিজেপি সমর্থকদের দৃঢ় বিশ্বাস পাথারকান্দিতে হ্যাটট্রিক করতে চলেছেন তাঁদের প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল। অন্যদিকে কংগ্রেস শিবিরও সমানভাবে আশাবাদী। সংগঠন কিছুটা দুর্বল হলেও ভোটের ময়দানে শেষ পর্যন্ত লড়াই ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে তারা।
কংগ্রেস সমর্থকদের দাবি, মুসলিম ভোটের সিংহভাগ, মণিপুরি ভোটের বড় অংশ, পাশাপাশি বাঙালি ও চা-বাগানের হিন্দিভাষী ভোটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তাঁদের দিকেই এসেছে। তাঁদের মতে, এই ভোট সমীকরণই শেষ পর্যন্ত জয় এনে দেবে কার্তিকসেনা সিনহাকে—এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। বর্তমানে দুই শিবিরই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে নিশ্চিত দাবি করলেও বাস্তব চিত্র স্পষ্ট হবে আগামী ৪ মে গণনার দিনেই। ততদিন পর্যন্ত পাথারকান্দি জুড়ে চলবে জল্পনা, বিশ্লেষণ, রাজনৈতিক চর্চা এবং অপেক্ষার প্রহর গোনা। গণতন্ত্রের এই মহাউৎসবের ভোটপর্ব শেষ হলেও আসল উত্তেজনা যেন এখনই শুরু। ফল ঘোষণার আগে পর্যন্ত প্রতিটি দিনই যেন নতুন করে উত্তেজনা বাড়াবে। শেষ হাসি কে হাসবেন দুবারের বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল, না প্রাক্তন বিধায়ক কার্তিকসেনা সিনহা তার উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ইভিএমের ভেতরে। সেই রহস্যের পর্দা উঠবে ৪ মে গণনার দিনেই। ততদিন পাথারকান্দির আকাশে ভাসবে একটাই প্রশ রাজমুকুট কার?



