স্ত্রীর সম্পত্তি গোপনের অভিযোগ এনে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ কংগ্রেস

Spread the news

বরাক তরঙ্গ, ৬ এপ্রিল : এইবার মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা-এর বিরুদ্ধে যেন জোরালোভাবে নেমে পড়েছে বিরোধী কংগ্রেস দল। মুখ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেসের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের রাজনীতিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে অসম। এই অভিযোগের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর নামও জড়িয়ে পড়েছে। এরপর কী কী ঘটেছে, তা ইতিমধ্যেই সকলেই জানেন।

এই বিতর্ক এখানেই শেষ হয়নি, বরং অভিযোগ আরও জোরদার হয়েছে। সম্প্রতি অসম প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা জাতীয় মিডিয়া সেলের প্রধান পবন খেড়া-র অভিযোগে রাজ্যের রাজনীতিতে যেন বিস্ফোরণ ঘটেছে। মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী রিণিকি ভূঞা শর্মার নামে তিনটি পাসপোর্ট এবং বিদেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের বিনিয়োগ নিয়ে বড় অভিযোগ তুলেছিলেন পবন খেড়া।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নির্বাচনী হলফনামায় স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পত্তির কোনো উল্লেখ নেই—এই অভিযোগ তুলে সোমবার নির্বাচন কমিশনের কাছে কংগ্রেস অভিযোগ দায়ের করে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা কি দুবাইয়ে থাকা স্ত্রীর বা পরিবারের সম্পত্তির মালিক? আমেরিকার ওয়াইমিং-এ তাঁর কোনও কোম্পানি আছে কি? এবং শেল কোম্পানিতে তিনি বিনিয়োগ করেছেন কি না—এই তিনটি প্রশ্ন তোলার পরদিনই, অর্থাৎ সোমবার, বিরোধী দল এই পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তবে বিরোধীদের আনা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শর্মা। জালুকবাড়ি আসনে মুখ্যমন্ত্রী শর্মার প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নেওগ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে দেওয়া অভিযোগে মুখ্যমন্ত্রীর বিপুল সম্পত্তির তথ্য গোপন করার বিষয়ে তদন্তের দাবি জানান।

নেওগ অভিযোগে বলেন, “উক্ত হলফনামার ফর্ম-২৬-এ স্পষ্ট আইনি নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিদেশে থাকা কোনও সম্পত্তির উল্লেখ করা হয়নি। দুবাই ল্যান্ড ডিপার্টমেন্টের নথি অনুযায়ী প্রমাণিত হয় যে প্রার্থীর স্ত্রী রিণিকি ভূঞা শর্মা সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর দুবাইয়ের আল বারশা সাউথ ফোর্থ এলাকায় দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের মালিক।”

কংগ্রেস প্রার্থী বিদিশা নেওগ আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর মালিকানাধীন এই সম্পত্তির তথ্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন করা হয়েছে, যা নির্বাচন কমিশনের নিয়ম লঙ্ঘন করে। সেই কারণে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, “এই সমস্ত সম্পত্তি জব্দ করা এবং জন প্রতিনিধি আইন, ১৯৫১-এর ৩৬ ধারায় হিমন্ত বিশ্ব শর্মার মনোনয়ন বাতিল ও ১২৫এ ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা স্বপন দাস অভিযোগ করেন যে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রী আমেরিকা, দুবাই এবং ওয়াইমিং-এ গোপনে সম্পত্তি কিনেছেন। এই অভিযোগে তিনি প্রয়োগকারী সংস্থা (ইডি)-র কাছে অভিযোগ দায়ের করে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০০২-এর অধীনে মামলা করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, অসম প্রদেশ কংগ্রেসের মিডিয়া ও প্রচার কমিটির প্রধান পবন খেড়া রবিবার অভিযোগ করেছিলেন যে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, মিশর এবং অ্যান্টিগুয়া-বারবুডার তিনটি পাসপোর্ট রয়েছে, দুবাইয়ে দু’টি বিলাসবহুল সম্পত্তি এবং আমেরিকার শেল কোম্পানিতে বিনিয়োগ রয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এই সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে বলেন, পাকিস্তানি সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে বিরোধীরা তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুলেছে।

মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অসম কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ তাঁকে ভগবানের নামে শপথ নিয়ে এই দাবিগুলি অস্বীকার করার চ্যালেঞ্জ জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *