সীমান্তে নৃশংস হত্যা, ২০ দিন পর মিলল তিন যুবকের দেহ

Spread the news

রাজীব মজুমদার, ধলাই।
বরাক তরঙ্গ, ৬ এপ্রিল : ভারত-মায়ান্মার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তিন যুবকের নৃশংস হত্যার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার দুই ব্যবসায়ী এবং অসমের কাছাড় জেলার এক যুবক নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২০ দিন পর তাদের মৃত্যুর সূত্র সামনে আসতেই শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

মৃতদের পরিচয় হিসেবে জানা গেছে, মেদিনীপুরের জাহাঙ্গীর মির্জা (২৩) ও আরাউফিক খান (২৪), এবং কাছাড় জেলার ধলাই থানার রাজঘাট গ্রামের বাসিন্দা আক্তার হোসেন মজুমদার (২১)। পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ মার্চ তারা একটি পিকআপ গাড়ি নিয়ে ব্যবসায়িক কাজে মিজোরামের চাম্পাইয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকলেও এরপর হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। আত্মীয়-পরিজনরা মিজোরামের সীমান্তবর্তী এলাকা পর্যন্ত গিয়ে অনুসন্ধান চালান। স্থানীয় সূত্রে তখনই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়, মায়ানমারের একটি উগ্রপন্থী সংগঠন ‘ZRA’-এর সদস্যরা তাদের অপহরণ করে থাকতে পারে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে পরিবারগুলিকে সেখান থেকে ফিরে আসতে হয়।

ঘটনার মোড় ঘুরে যায় গত ৫ এপ্রিল, যখন একটি সোশ্যাল মিডিয়া ভিডিওতে দাবি করা হয়, ২২ মার্চ তিন ভারতীয় যুবককে হত্যা করা হয়েছে। ভিডিওতে তাদের ব্যবহৃত গাড়িটিও দেখা যায়। এরপর আরও কিছু ছবি সামনে আসে, যেখানে গুলিবিদ্ধ ও আগুনে পোড়া দেহ, হাত-পা ভাঙা অবস্থায় শিকল দিয়ে বাঁধা দেহের ছবি দেখা যায়। একটি ছবিতে জঙ্গলের ভিতরে তাদের দাফন করা হয়েছে বলেও উল্লেখ রয়েছে।

এই ছবি দেখেই পরিবারের সদস্যরা তিনজনকে শনাক্ত করেন। পরে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনিপুরের চুরাচাঁদপুর জেলার একটি এলাকায় তাদের ব্যবহৃত গাড়ি রয়েছে এবং সেখান থেকে কিছু দূরে তিনজনকে কবর দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় ভেঙে পড়েছে তিনটি পরিবার। আক্তার হোসেনের মা ছেলের ক্ষতবিক্ষত ছবি দেখে জ্ঞান হারান। পরিবারের একটাই দাবি—যত দ্রুত সম্ভব মৃতদেহ উদ্ধার করে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।
পশ্চিমবঙ্গ, অসম, মিজোরাম ও মণিপুর চারটি রাজ্যের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশ মায়ান্মারের নাম জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এখন কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনের তৎপরতার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে পরিবার ও সাধারণ মানুষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *