বরাক তরঙ্গ, ২ এপ্রিল : শিলচর লায়ন্স ক্লাবের সহযোগিতায় উধারবন্দ জগন্নাথ সিং কলেজের ‘উইমেন্স সেল’-এর উদ্যোগে এক গুরুত্বপূর্ণ সচেতনতা শিবির অনুষ্ঠিত হয়। বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে মূল বিষয় ছিল— “তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণ এবং মানবস্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব”।
কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত ভাষণ দেন উইমেন্স সেল-এর কো-অর্ডিনেটর তথা ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. সুস্মিতা মিত্র। তিনি বলেন, “ডিজিটাল বিপ্লব বিশ্বকে আমাদের হাতের মুঠোয় এনে দিলেও আমাদের ঘিরে রেখেছে তড়িৎচুম্বকীয় সংকেতের এক অদৃশ্য জাল। আমাদের লক্ষ্য প্রযুক্তিকে ভয় পাওয়া নয়, বরং ‘ডিজিটাল ওয়েল-বিয়িং’ বা ডিজিটাল সুস্থতা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা।”
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনভায়রোচিপ (Envirochip)-এর উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আঞ্চলিক প্রধান শ্রী অমিত চক্রবর্তী। তিনি অত্যন্ত সহজভাবে মোবাইল ফোন, ওয়াই-ফাই এবং টাওয়ার থেকে নির্গত তরঙ্গের কার্যপ্রণালী ব্যাখ্যা করেন। দীর্ঘ সময় এই বিকিরণের সংস্পর্শে থাকলে মানবদেহে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে তিনি আলোকপাত করেন।

লায়ন্স ক্লাবের আঞ্চলিক অধিকর্তা কিঙ্কিনী দে দত্ত বিকিরণ সুরক্ষা সংক্রান্ত আঞ্চলিক কাঠামো এবং বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে কারিগরি তথ্য তুলে ধরেন। জিআরডিডি মমতা ভট্টাচার্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্যক্ত করে বলেন, “সচেতনতাই হলো ক্ষমতায়নের প্রথম ধাপ। সঠিক তথ্য জানলে আমরা আমাদের পরিবারের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারব।”
সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ড. বাসবী পাল সেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপিকা ড. গীতশ্রী দেব, হিন্দি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. দিলীপকুমার ঠাকুর সহ কলেজের অন্যান্য শিক্ষাকর্মী ও অশিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

উইমেন্স সেল-এর পক্ষ থেকে এই সচেতনতা শিবিরের জন্য শিলচর লায়ন্স ক্লাবকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়। বক্তারা একমত হন যে, একবিংশ শতাব্দীর এই নতুন ধরনের স্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংস্থাগুলোর একযোগে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে একটি প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষিকারা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি পরামর্শ গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানটি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্ববোধ গড়ে তুলতে এবং শারীরিক স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দিয়ে ডিজিটাল বিশ্বে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা জোগাতে সফল হয়েছে।



