প্রেমিকার দেহ টুকরো করে ফ্রিজে, হাড়হিম হত্যাকাণ্ড নৌবাহিনীর কর্মীর

Spread the news

৩১ মার্চ : আধুনিক প্রযুক্তির যুগে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়, সেখান থেকেই ঘনিষ্ঠতা। কিন্তু সেই সম্পর্কের পরিণতি যে এমন নৃশংস হতে পারে, তা ভাবলে শিউরে উঠছে গোটা দেশ। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে এক তরুণীকে খুনের পর তাঁর দেহ তিন টুকরো করে ফ্রিজ ও খাটের তলায় লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠল ভারতীয় নৌবাহিনীর এক কর্মীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় অভিযুক্ত ওই কর্মীকে ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ।

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের নাম চিন্তাদা রবীন্দ্র (৩০)। তিনি ভারতীয় নৌবাহিনীর ‘আইএনএস দেগা’-তে টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত। গত প্রায় দু’বছর ধরে বিশাখাপত্তনমের গজুবাকা এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তিনি। ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ২৮ বছর বয়সি পোলিপল্লি মৌনিকার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। রবীন্দ্র বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও মৌনিকার সঙ্গে তাঁর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় ঘনঘন দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে তাঁদের সম্পর্ক আরও গভীর হয়।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, রবীন্দ্রর স্ত্রী সম্প্রতি মা হয়েছেন এবং তিনি বর্তমানে বাবার বাড়িতে রয়েছেন। এই সুযোগে রবিবার দুপুরে মৌনিকাকে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে পাঠান রবীন্দ্র। সেখানেই দুজনের মধ্যে টাকার লেনদেন এবং সম্পর্ক নিয়ে প্রবল অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, মৌনিকা রবীন্দ্রর কাছ থেকে প্রায় সাড় ৩ লক্ষ টাকা নিয়েছিলেন এবং তাঁদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রর স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। মেজাজ হারিয়ে রবীন্দ্র মৌনিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন বলে অভিযোগ।

খুনের পর অপরাধ ঢাকতে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ছক কষেন ওই নৌকর্মী। অনলাইনে ছুরি আনিয়ে মৌনিকার দেহকে তিন টুকরো করেন তিনি। দেহের একটি অংশ রাখা হয় ফ্রিজে, অন্য অংশটি একটি বস্তায় ভরে লুকানো হয় খাটের তলায়। আর দেহের মাথা ও হাত নিয়ে যাওয়া হয় আদবিভারম এলাকার এক নির্জন স্থানে, যেখানে প্রমাণ লোপাটের জন্য সেগুলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিবেশীরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে ওই বন্ধ ফ্ল্যাটের ভেতর এমন পৈশাচিক কাণ্ড ঘটছে।

সবটা গুছিয়ে ফেলার পর রবীন্দ্র তাঁর এক বন্ধুকে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান। সেই বন্ধুর পরামর্শেই শেষমেশ গজুবাকা থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। পুলিশ ফ্ল্যাটে গিয়ে দেহের দেহাংশ ও রক্তমাখা অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করে ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *