২৫ মার্চ : ইজরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধ করতে ইরান পাঁচটি কঠোর শর্ত দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে।
ইরানের প্রধান শর্তগুলো নিম্নরূপ:
১. যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না হওয়ার নিশ্চয়তা — ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরানের ওপর হামলা চালাবে না, এমন দৃঢ় নিরাপত্তা গ্যারান্টি।
২. হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ — প্রণালিতে নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করা, যাতে এলাকাটি কার্যত ইরানের নিয়ন্ত্রণে থাকে। (বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়।)
৩. মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি বন্ধ — অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
৪. যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে ইরানের যুদ্ধকালীন ক্ষতির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৫. বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা — ইরান-বিরোধী বা শত্রুভাবাপন্ন সংবাদমাধ্যম ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ইরানের কাছে হস্তান্তর অথবা বিচারের আওতায় আনা।
কিছু সূত্রে অতিরিক্ত শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে — যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অঞ্চলের সব যুদ্ধ (ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে) বন্ধ করতে হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন কয়েকদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইরান এখন আলোচনায় “বেশ গুরুত্ব” দিচ্ছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি স্বীকার করা হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উভয় পক্ষের দাবি ও শর্ত অত্যন্ত কঠিন এবং পরস্পরবিরোধী। তাই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো অনেক সময় লাগতে পারে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন ঘাঁটি প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য লাল রেখা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর, মিডল ইস্ট আই, আল-মায়াদিন ও হিব্রু মিডিয়া রিপোর্ট। খবর : দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকা ডিজিটাল।



