পাথারকান্দিতে কৃষি মহাবিদ্যালয়ের ভার্চুয়ালি ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন প্রধানমন্ত্রীর

Spread the news

শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষকদের উন্নয়নে নতুন দিগন্তের সূচনা : মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল

মোহাম্মদ জনি, পাথারকান্দি।
বরাক তরঙ্গ, ১৪ মার্চ : শনিবার ১৪ মার্চ দিনটি বরাক উপত্যকা সহ শ্রীভূমি জেলার পাথারকান্দি এলাকার মানুষের জন্য এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় দিন হয়ে রইল। দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বাস্তবায়নের পথে এগোল বরাক উপত্যকার বহুদিনের স্বপ্ন পাথারকান্দিতে একটি আধুনিক কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষি শিক্ষা, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শনিবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিলচর বাইপাস সংলগ্ন বধুরাইল এলাকায় অনুষ্ঠিত জনসভা থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রায় ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই কৃষি মহাবিদ্যালয় দক্ষিণ আসামের কৃষি শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর পাথারকান্দির নারাইনপুর জিপির অন্তর্গত পূর্বগুল দোহালিয়া এলাকায় নির্ধারিত জমিতে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভূমিপূজন সম্পন্ন হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে এলাকাজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উৎসাহ ও আনন্দ।

এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীভূমি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অনিল কুমার ত্রিপাঠি, বিভিন্ন প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষও উপস্থিত থেকে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানের আগে একটি আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়, যেখানে বড় পর্দায় প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কর্মসূচির সরাসরি সম্প্রচার দেখানো হয়। উপস্থিত সবাই মনোযোগ সহকারে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শোনেন। তাঁর বক্তব্যে কৃষির উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি শিক্ষার প্রসারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

উল্লেখযোগ্য যে, কৃষি মহাবিদ্যালয়টি সম্পূর্ণভাবে নির্মিত হয়ে চালু হলে বরাক উপত্যকার ছাত্রছাত্রীদের জন্য উচ্চশিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

এদিকে, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পাথারকান্দির বিধায়ক তথা মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দু পাল বলেন, এই দিনটি বরাক উপত্যকার মানুষের জন্য অত্যন্ত গর্বের ও আনন্দের। দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ একটি কৃষি মহাবিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে সেই স্বপ্ন আজ বাস্তব রূপ নিতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন, পাথারকান্দিতে এই কৃষি মহাবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই নয়, বরং এটি বরাক উপত্যকার কৃষি উন্নয়নের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এই প্রতিষ্ঠান চালু হলে এলাকার মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা কৃষি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য আর বাইরে যেতে বাধ্য হবেন না। পাশাপাশি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকরাও উপকৃত হবেন এবং কৃষির উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের অর্থনীতিও আরও শক্তিশালী হবে।

তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগ ও সমর্থনের ফলেই এই প্রকল্পের সূচনা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। আগামী দিনে এই কৃষি মহাবিদ্যালয় বরাক উপত্যকার শিক্ষা, গবেষণা ও কৃষি উন্নয়নের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *