মোহাম্মদ জনি, শ্রীভূমি।
বরাক তরঙ্গ, ৩০ সেপ্টেম্বর : কৃষকদের জন্য সরকারি অনুদানে বরাদ্দ সার পরিবহণকে ঘিরে বরাক উপত্যকায় তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন। শ্রীভূমি পুলিশের চেকিংয়ে পরপর চারটি ১২-চাকার সারবোঝাই ট্রাক আটক ও বাজেয়াপ্তের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চারটি ট্রাক থেকে মোট ২২৪০ বস্তা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত সার উদ্ধার হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই তদন্তকারীদের সামনে উঠে এসেছে সারের উৎস, বরাদ্দ এলাকা এবং প্রকৃত গন্তব্য নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। পাশাপাশি এত বিপুল পরিমাণ সার পরিবহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দফতরের নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দু’দিন আগে শ্রীভূমি সদর থানার পুলিশ শহরের উপকণ্ঠের টোলগেট এলাকায় নাকা চেকিং চালাচ্ছিল। সেই সময় একটি ১২-চাকার ট্রাককে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ ট্রাকটি আটক করে তল্লাশি চালায়। ট্রাকে বিপুল পরিমাণ সার পাওয়ার পর পরিবহণ সংক্রান্ত নথিপত্র পরীক্ষা করা হয়। নথিতে অসঙ্গতি নজরে আসার পর অভিযান আরও জোরদার করা হয়। এরপর একে একে আরও তিনটি সারবোঝাই ট্রাক আটক করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে চারটি ট্রাকের সার পরিবহণ সংক্রান্ত নথিতে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে। কোথা থেকে সার সংগ্রহ করা হয়েছিল, কোন ডিলারের মাধ্যমে তা পাঠানো হয়েছিল, কোন এলাকার জন্য বরাদ্দ ছিল এবং ট্রাকগুলির নির্ধারিত গন্তব্য কোথায় ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
শ্রীভূমির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ত্রিনয়ন ভূঁইয়া জানান, সরকারি সার সরবরাহের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট SOP অনুসরণ করার নিয়ম রয়েছে। পরিবহণের আগে সংশ্লিষ্ট জেলা কৃষি বিভাগকে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানোর কথা। আটক চারটি ট্রাকের ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে জেলা কৃষি বিভাগকে আগাম তথ্য দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এদিকে, সূত্রের দাবি, চারটি ট্রাক আটক হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ই-মেইলের মাধ্যমে কৃষি বিভাগকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে এই তথ্যের সত্যতা তদন্তে যাচাই করা হচ্ছে।



